মাহফিলের মঞ্চে নিলামে উঠল মাত্র চারটি কমলা। শুরুতে দাম হাঁকা হয় ৫ হাজার টাকা। একপর্যায়ে সেই দাম বেড়ে দাঁড়ায় ৫০ হাজারে। শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী আব্দুল মালিক রুকন মাদরাসার সহযোগিতার উদ্দেশ্যে কমলাগুলো কিনে নেন।
বুধবার রাতে মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলার কামারচাক ইউনিয়নের মরিচা মাদরাসায় আয়োজিত ওয়াজ মাহফিলে ঘটে এ ব্যতিক্রমী ঘটনা। রাত প্রায় ১টার দিকে মাহফিলের শেষ পর্যায়ে নিলামে তোলা হয় এক হালি কমলা।
মাহফিলে প্রধান অতিথি ও শেষ বক্তা হিসেবে বয়ান করেন শায়খুল হাদিস মুফতি মুশাহিদ আলী ক্বাসেমী। তার বক্তব্য শেষে মাদরাসার পক্ষ থেকে চারটি কমলা নিলামে তোলা হয়। পুরো মাহফিলের পাশাপাশি নিলামের অংশটিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে সরাসরি সম্প্রচার করা হচ্ছিল।
নিলাম শুরু হওয়ার পর উপস্থিত ব্যক্তি ও প্রবাসী শুভাকাঙ্ক্ষীদের মধ্যে আগ্রহ দেখা যায়। ৫ হাজার টাকা থেকে শুরু হওয়া দর হাঁকাহাঁকির একপর্যায়ে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা প্রস্তাব করেন যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী আব্দুল মালিক রুকন। শেষ পর্যন্ত ওই দামেই চারটি কমলা তার নামে বিক্রি হয়।
মাহফিলে অংশ নেওয়া ব্যক্তিরা জানান, ফল কেনার চেয়ে মূল উদ্দেশ্য ছিল মাদরাসার পাশে দাঁড়ানো। ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানটির ব্যয় নির্বাহে সহযোগিতার অংশ হিসেবেই নিলামে অংশ নেন শুভাকাঙ্ক্ষীরা।
আব্দুল মালিক রুকনের ছেলে আব্দুল আজিজ সালমান বলেন, মাদরাসার কার্যক্রমে সহযোগিতা করার উদ্দেশ্যেই তার বাবা কমলাগুলো কিনেছেন। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটির জন্য প্রতি বছর ৩৬ হাজার টাকা করে সহযোগিতার আশ্বাসও দিয়েছেন তিনি। মাদরাসার উন্নয়নে ভবিষ্যতেও পাশে থাকার কথা জানিয়েছেন তার বাবা।
মরিচা মাদরাসার সভাপতি সোলেমান আহমেদ ও মুহতামিম হাফিজ মাওলানা ফখরুল ইসলাম শাহীন জানান, প্রতিষ্ঠানটির ব্যয় মেটাতে স্থানীয় ও প্রবাসী শুভাকাঙ্ক্ষীদের সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ। এ কারণে কয়েক বছর ধরে ওয়াজ মাহফিলে বিভিন্ন ফল নিলামের মাধ্যমে বিক্রি করা হচ্ছে।
তারা জানান, এবার চারটি কমলা ৫০ হাজার টাকায় বিক্রির পাশাপাশি আধা কেজি খেজুরও নিলামে তোলা হয়। সেটি বিক্রি হয়েছে ১৫ হাজার টাকায়। তাদের ভাষ্য, ফলগুলোর দাম মূলত প্রতীকী; নিলামে অংশ নেওয়া ব্যক্তিরা মাদরাসার প্রতি সহযোগিতার মানসিকতা থেকেই বেশি দাম দিয়ে তা কিনে থাকেন।
মাদরাসা কর্তৃপক্ষ বলছে, নিলাম থেকে পাওয়া অর্থ প্রতিষ্ঠানটির বিভিন্ন প্রয়োজন ও উন্নয়নমূলক কাজে ব্যয় করা হবে।
সদ্য সংবাদ/এসএস