নরসিংদীর মনোহরদীতে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির মামলায় শরিফুল ইসলাম শাকিল নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে এসআরবি। বুধবার (৭ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর শেরেবাংলা নগর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে রাতেই তাকে মনোহরদী থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
গ্রেপ্তার শরিফুল ইসলাম শাকিল উপজেলার চালাকচর ইউনিয়নের হাফিজপুর গ্রামের কাজী নজরুল ইসলাম বাদশাহর ছেলে।
মামলার নথি ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, চালাকচর বাজারে সাজ্জাদ আলী বাহার নামে এক ব্যক্তি একটি দোকান বিক্রির কথা জানান। দোকানটি কিনতে আগ্রহী হয়ে চালাকচর ইউনিয়ন পরিষদের মহিলা সদস্য রোকেয়া আক্তারের স্বামী জাকির হোসেন ১৮ লাখ টাকা দেন। তবে টাকা নেওয়ার পরও বাহার দোকানটি বুঝিয়ে না দেওয়ায় কিংবা অর্থ ফেরত না দেওয়ায় তাদের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়।
এ অবস্থায় শাকিল দোকান মালিকের পক্ষে অবস্থান নিয়ে রোকেয়া আক্তার ও তার স্বামীকে বিভিন্ন সময় হুমকি ও চাপ দিতে থাকেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের আগস্টে বিষয়টি মীমাংসা করে দেওয়ার কথা বলে রোকেয়া আক্তার ও তার স্বামীর কাছে ১০ লাখ টাকা দাবি করেন শাকিল। টাকা দিতে রাজি না হওয়ায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে দেওয়ার এবং মানহানি করার হুমকি দেওয়া হয়। একই সঙ্গে তাদের বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখানো অব্যাহত থাকে।
পরে এ ঘটনায় রোকেয়া আক্তার নরসিংদী জজ কোর্টে শরিফুল ইসলাম শাকিলের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও মানহানির মামলা করেন। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার পর আদালতে হাজির না হওয়ায় শাকিলের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়।
ওই পরোয়ানার ভিত্তিতেই শেরেবাংলা নগর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে এসআরবি। পরে তাকে মনোহরদী থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
রোকেয়া আক্তারের অভিযোগ, শাকিল বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে অর্থ দাবি করেন। টাকা না দিলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা তথ্য প্রচার ও মানহানি করার চেষ্টা করেন। তার কর্মকাণ্ডে এলাকার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন বলেও দাবি করেন তিনি। এ ঘটনায় তিনি শাকিলের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, মনোহরদীতে একটি কথিত ব্ল্যাকমেইল চক্রের সঙ্গে শাকিল জড়িত। তাদের দাবি, রাজনীতিবিদ, শিক্ষক, ব্যবসায়ী ও মুক্তিযোদ্ধাসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের কাছে নানা অজুহাতে অর্থ দাবি করা হয়। দাবি অনুযায়ী অর্থ না দিলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের নিয়ে মিথ্যা তথ্য ছড়ানোর অভিযোগও রয়েছে।
এদিকে, বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে অর্থ চাওয়ার কয়েকটি অডিও রেকর্ড প্রতিবেদকের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে বলে জানা গেছে।
মনোহরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহাঙ্গীর বাদশা বলেন, চাঁদাবাজির মামলায় আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা থাকায় শাকিলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে আরও কয়েকটি অপকর্মের অভিযোগ রয়েছে। পরে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
সদ্য সংবাদ/এসএস