চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র শাহাদাত হোসেনের ক্ষোভ ও অভিযোগ প্রকাশের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই খুলশী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আবদুর রহিমকে বিশেষ শাখায় (সিটিএসবি) বদলি করেছে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি)।
বুধবার (৭ অক্টোবর) সিএমপি কমিশনার হাসিব শওকত আলীর স্বাক্ষর করা আদেশে এ বদলি করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (প্রশাসন ও অর্থ) ওয়াহিদুল হক চৌধুরী। আদেশে বলা হয়েছে, ‘জনস্বার্থে’ বদলির সিদ্ধান্ত তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হবে। তবে বদলির কারণ হিসেবে আর কিছু উল্লেখ করা হয়নি।
একই আদেশে নগরের আরও দুই থানার ওসি পদেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। চকবাজার থানার পরিদর্শক (তদন্ত) নাজের হোসেনকে আকবরশাহ থানার ওসি করা হয়েছে। আকবরশাহ থানার বর্তমান ওসি কামরুজ্জামানকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে খুলশী থানায়। আর খুলশী থানার ওসি আবদুর রহিমকে সিটিএসবিতে বদলি করা হয়েছে। গত ২৭ আগস্ট খুলশী থানার দায়িত্ব নিয়েছিলেন তিনি।
এর আগে ৭ অক্টোবর দুপুরে তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী ওয়াকিল হোসেন ওরফে ‘বিহারী বগা’কে গ্রেপ্তারের পুলিশের প্রচেষ্টায় ওসি আবদুর রহিমের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন মেয়র শাহাদাত হোসেন।
মেয়র বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে আবদুর রহিম বাকলিয়া থানার ওসি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। সেই সময়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি থানায় দায়িত্বে থাকা একজন কর্মকর্তা পরবর্তী সময়ে খুলশীর মতো গুরুত্বপূর্ণ থানার দায়িত্ব কীভাবে পেলেন, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
শাহাদাত হোসেনের অভিযোগ, আবদুর রহিম খুলশী থানার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে এলাকায় আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ বা যুবলীগের কোনো নেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়নি।
এর আগে ৬ অক্টোবর রাতে সিটি করপোরেশন ভবনে ওয়াকিলকে গ্রেপ্তারের সময় পুলিশকে বাধা দেওয়া এবং নিজের গাড়িতে করে তাকে পালিয়ে যেতে সহায়তার অভিযোগ ওঠে মেয়রের বিরুদ্ধে। তবে এ অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেন তিনি।
সাংবাদিকদের মেয়র বলেন, ‘যদি কোনো সাংবাদিক প্রমাণ করতে পারেন যে ওয়াকিল আমার গাড়িতে উঠে সিটি করপোরেশন ত্যাগ করেছে, তবে আমি রাজনীতি ছেড়ে দেব।’
ওয়াকিলকে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসী হিসেবে উল্লেখ করার বিরোধিতা করে শাহাদাত বলেন, ‘ওয়াকিল কোনো আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসী নয়। সে গত ১৭-১৮ বছর ধরে আন্দোলন-সংগ্রামে ছিল। জুলাই-আগস্টের একজন যোদ্ধাও সে।’
ওয়াকিলের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ সরকারের সময় মামলা দেওয়ার দাবি করে মেয়র বলেন, ‘গত ১৬ বছরে তাকে প্রায় ৭০-৮০টি মামলা দেওয়া হয়েছে।’
সিটি করপোরেশনে বিভিন্ন মত ও দলের মানুষ নিজেদের সমস্যা নিয়ে আসেন উল্লেখ করে শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘সিটি করপোরেশন সবার জন্য উন্মুক্ত। এখানে বিভিন্ন দলের, বিভিন্ন মতের মানুষ বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে আসেন। আমি কোনো বিশেষ দল বা গোষ্ঠীর মেয়র নই। আমি চট্টগ্রামের আপামর জনসাধারণের মেয়র।’
তিনি বলেন, সিটি করপোরেশনের বাইরে কোনো ওয়ান্টেড আসামি থাকলে তাকে গ্রেপ্তার করা পুলিশের দায়িত্ব।
তবে পুলিশের ভাষ্য, ওয়াকিল সিটি করপোরেশন ভবনের ভেতরে অবস্থান করছিলেন—এমন কোনো নির্দিষ্ট তথ্য তাদের কাছে ছিল না। ওই এলাকায় তার অবস্থানের খবর পেয়ে তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা করা হয়। তাকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
মেয়রের অভিযোগের বিষয়ে ওসি আবদুর রহিমের তাৎক্ষণিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
কে এই ‘বিহারী বগা’
চট্টগ্রাম নগরের খুলশী এলাকায় ওয়াকিল হোসেন ওরফে ‘বিহারী বগা’ পুলিশের তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, খুলশী থানায় অস্ত্র, বিস্ফোরক ও চাঁদাবাজির অভিযোগে তার বিরুদ্ধে ২৩টি মামলা রয়েছে।
সম্প্রতি এক কলেজশিক্ষককে মারধরের ঘটনায় ওয়াকিলকে গ্রেপ্তার করতে গেলে তার অনুসারীদের হামলায় ওসিসহ ছয় পুলিশ সদস্য আহত হন বলে পুলিশের অভিযোগ। এর আগে ওসিকে পেটানোর হুমকি দেওয়ার অভিযোগেও তিনি আলোচনায় এসেছিলেন।
বিভিন্ন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে গত ৮ জুন তাকে নগর স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়। তিনি নগর বিএনপির এক শীর্ষ নেতার অনুসারী হিসেবে পরিচিত।
সদ্য সংবাদ/ এআর