হাত বাঁধা উদ্ধার গৃহবধূর মরদেহের পরিচয় মিলেছে, যৌতুকের দাবিতে হত্যার অভিযোগ

স
সদ্য সংবাদ ডেস্ক
৯ অক্টোবর, ২০২৬ ২৩:১৮:২১
ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে বিদ্যালয়ের পাশের জমি থেকে হাত বাঁধা অবস্থায় উদ্ধার হওয়া গৃহবধূর পরিচয় শনাক্ত করেছে পুলিশ। তাঁর নাম চন্দনা রানী শীল (২২)। পরিবারের দাবি, যৌতুকের দাবিতে স্বামী শিমুল শীল তাঁকে হত্যা করেছেন। তবে হত্যাকাণ্ডের কারণ ও এর সঙ্গে কারা জড়িত, তা তদন্ত শেষে নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার বারৈয়ারঢালা ইউনিয়নের টেরিয়াইল উচ্চবিদ্যালয়ের পশ্চিম পাশের একটি জমি থেকে চন্দনার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তিনি কুমিরা ইউনিয়নের বড় কুমিরা এলাকার মানিক ডাক্তারবাড়ির বাসিন্দা শিমুল শীলের স্ত্রী।

পুলিশ জানায়, উদ্ধারের পরপরই ওই নারীর পরিচয় নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। পরে বিকেল সাড়ে ৫টার পর তাঁর বাবা তেজেন্দ্র দাস সীতাকুণ্ড থানায় গিয়ে মরদেহটি নিজের মেয়ে চন্দনার বলে শনাক্ত করেন। মরদেহের দুই হাত সামনের দিকে কাপড় দিয়ে বাঁধা ছিল। গলায় প্যাঁচানো ছিল একটি ওড়না। প্রাথমিকভাবে তাঁকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করছে পুলিশ।

চন্দনার বাবা তেজেন্দ্র দাসের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকে যৌতুকের জন্য তাঁর মেয়েকে নিয়মিত শারীরিক নির্যাতন করতেন শিমুল। গত বুধবারও টাকা চেয়ে চাপ দেওয়া হলে চন্দনা স্বামীকে নিয়ে বাবার বাড়িতে যান। সেখানে স্বামীর দাবির কথা জানিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। পরে কিছুদিনের মধ্যে টাকা জোগাড় করে দেওয়ার আশ্বাস পেয়ে স্বামীর সঙ্গে ফিরে যান চন্দনা।

তেজেন্দ্র দাস জানান, বৃহস্পতিবার রাত ৮টার পর থেকে মেয়ের মুঠোফোন বন্ধ পেয়ে তিনি জামাতাকে ফোন করেন। কিন্তু শিমুল চন্দনার বিষয়ে কিছু জানেন না বলে জানিয়ে ফোন কেটে দেন। পরদিন শুক্রবার বিকেলে তাঁর এক ভাগিনা মুঠোফোনে চন্দনার মরদেহের ছবি দেখতে পান। পরে বিষয়টি পরিবারকে জানানো হলে তাঁরা থানায় গিয়ে মরদেহটি শনাক্ত করেন।

চন্দনার মা আলো রানী দাসও তাঁর মেয়েকে নির্যাতনের অভিযোগ করেছেন। তাঁর দাবি, যৌতুকের অর্থ আদায়ের জন্য শিমুল প্রায় প্রতি রাতেই চন্দনাকে মারধর করতেন। স্বামীর দাবি পূরণের আশায় চন্দনা স্থানীয় একটি প্রতিষ্ঠানে শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন। মেয়ের হত্যার সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ চেয়েছেন তিনি।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে শিমুল শীলের মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।

সীতাকুণ্ড থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মহিনুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, মরদেহ উদ্ধারের সময় ওই নারীর হাতে শাঁখা দেখে তাঁকে সনাতন ধর্মাবলম্বী বলে ধারণা করা হয়েছিল। পরে তাঁর বাবা-মা থানায় এসে পরিচয় নিশ্চিত করেন।

ওসি আরও বলেন, মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত শেষে ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। চন্দনার পরিবারের পক্ষ থেকে তাঁর স্বামীর বিরুদ্ধে যৌতুকের কারণে পরিকল্পিতভাবে হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। সূত্র: আজকের পত্রিকা

সদ্য সংবাদ/ এআর

সারাদেশ ব্রেকিং

মন্তব্য (0)

মন্তব্য করুন

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!

বিজ্ঞাপনের জন্য খালি স্পেস

শিরোনাম:
সদ্য. তাজমিন হত্যার আসামি সুমনকে আনা হয়েছে কুমিল্লায়, উদ্ধার মোবাইল ফোন সদ্য. মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে ভয়, লজ্জা ও কুসংস্কার দূর করার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর সদ্য. গাজীপুরে প্রকাশ্যে বিকাশ এজেন্টকে গুলি, ৩ কোটি টাকা লুট সদ্য. তাজমিন হত্যা মামলার তদন্তে নতুন মোড়, আইফোনের তথ্য ধরে অনুসন্ধান সদ্য. বান্ধবী ভালো না তাই ৬ মাস মেয়েকে স্কুলে যেতে দেননি তাজমিনের মা! সদ্য. নানা পাটেকরের অস্বাভাবিক মৃত্যু! পুলিশের মামলা সদ্য. হাত বাঁধা উদ্ধার গৃহবধূর মরদেহের পরিচয় মিলেছে, যৌতুকের দাবিতে হত্যার অভিযোগ সদ্য. ডিপি ওয়ার্ল্ডকে বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান জানালেন প্রধানমন্ত্রী সদ্য. রিয়াদ বিমানবন্দর লক্ষ্য করে আবারও হুতিদের হামলা সদ্য. যে জেলের জেলার ছিলেন, সেখানেই বন্দী হলেন দিব্যা চৌধুরী সদ্য. তাজমিন হত্যার আসামি সুমনকে আনা হয়েছে কুমিল্লায়, উদ্ধার মোবাইল ফোন সদ্য. মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে ভয়, লজ্জা ও কুসংস্কার দূর করার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর সদ্য. গাজীপুরে প্রকাশ্যে বিকাশ এজেন্টকে গুলি, ৩ কোটি টাকা লুট সদ্য. তাজমিন হত্যা মামলার তদন্তে নতুন মোড়, আইফোনের তথ্য ধরে অনুসন্ধান সদ্য. বান্ধবী ভালো না তাই ৬ মাস মেয়েকে স্কুলে যেতে দেননি তাজমিনের মা! সদ্য. নানা পাটেকরের অস্বাভাবিক মৃত্যু! পুলিশের মামলা সদ্য. হাত বাঁধা উদ্ধার গৃহবধূর মরদেহের পরিচয় মিলেছে, যৌতুকের দাবিতে হত্যার অভিযোগ সদ্য. ডিপি ওয়ার্ল্ডকে বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান জানালেন প্রধানমন্ত্রী সদ্য. রিয়াদ বিমানবন্দর লক্ষ্য করে আবারও হুতিদের হামলা সদ্য. যে জেলের জেলার ছিলেন, সেখানেই বন্দী হলেন দিব্যা চৌধুরী