চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে চন্দনা রানী শীল (২২) নামে এক গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় তাঁর স্বামী শিমুল শীলসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-৭। যৌতুকের দাবিতে নির্যাতনের অভিযোগের মধ্যে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা সামনে এসেছে। নিহতের পরিবারের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই চার লাখ টাকা যৌতুকের জন্য চন্দনাকে চাপ দেওয়া হচ্ছিল।
শনিবার (১০ অক্টোবর) র্যাব-৭-এর সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
র্যাব জানায়, শুক্রবার রাতে সীতাকুণ্ডের বড় দারোগারহাট এলাকায় কুমিরা হাইওয়ে থানার সামনে থেকে শিমুল শীলকে আটক করা হয়। তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে টেরিয়াইল বাজারের লাকি কমিউনিটি সেন্টারের সামনে থেকে পীযুষ শীল ওরফে প্রীতমকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে বারবকুণ্ডের মান্দারীটোলা এলাকা থেকে নজরুল ইসলাম এবং ফকিরহাট এলাকা থেকে মো. ইলিয়াসকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এর আগে শুক্রবার সকালে সীতাকুণ্ডের বারৈয়াঢালা ইউনিয়নের টেরিয়াইল উচ্চবিদ্যালয়ের পেছনে একটি জমির আইল থেকে চন্দনার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তাঁর দুই হাত কাপড় দিয়ে বাঁধা ছিল এবং গলায় ওড়না প্যাঁচানো অবস্থায় পাওয়া যায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবি দেখে পরিবারের সদস্যরা মরদেহটি শনাক্ত করেন।
নিহত চন্দনা উপজেলার সৈয়দপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ-পশ্চিম সৈয়দপুর এলাকার তেজেন্দ্র দাশের মেয়ে। প্রায় এক বছর আগে প্রেমের সম্পর্কের সূত্র ধরে বড় কুমিরা এলাকার দিলীপ শীলের ছেলে শিমুলের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়।
পরিবারের অভিযোগ, বিয়ের কিছুদিন পর থেকেই চন্দনার কাছে চার লাখ টাকা যৌতুক দাবি করা হচ্ছিল। এ নিয়ে তাঁকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হতো। দাবিকৃত অর্থ জোগাড়ের জন্য চন্দনা স্থানীয় একটি কারখানায় শ্রমিক হিসেবেও কাজ শুরু করেন।
পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, মৃত্যুর আগের দিন নির্যাতনের শিকার হয়ে বাবার বাড়িতে ফিরে যান চন্দনা। সেখানে যৌতুকের টাকা নিয়ে কান্নাকাটি করেন তিনি। পরে পরিবারের সদস্যরা তাঁকে আশ্বস্ত করে স্বামীর বাড়িতে পাঠান। এর পরদিনই তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় চন্দনার বাবা বাদী হয়ে সীতাকুণ্ড মডেল থানায় হত্যা মামলা করেছেন। গত ৯ অক্টোবর দায়ের করা মামলায় শিমুলসহ চারজনকে এজাহারভুক্ত আসামি করা হয়েছে। পাশাপাশি অজ্ঞাতপরিচয় আরও দুই থেকে তিনজনকে আসামি করা হয়েছে। মামলাটি দণ্ডবিধির ৩০২ ও ৩৪ ধারায় করা হয়েছে।
র্যাব-৭-এর সহকারী পরিচালক মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ জানান, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সীতাকুণ্ড মডেল থানা-পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
তবে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ ও এতে প্রত্যেকের সংশ্লিষ্টতা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
সদ্য সংবাদ/এসএস