কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীতে সার ডিলার নিয়োগকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। নিয়োগ পাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির নেতারা রয়েছেন এমন অভিযোগ তুলে নিয়োগপ্রক্রিয়া বাতিলের দাবি জানিয়েছেন দলটির স্থানীয় নেতাকর্মীরা। একই সঙ্গে নিয়োগে অনিয়ম ও অর্থ লেনদেনের অভিযোগের তদন্ত চেয়েছেন তাঁরা।
সোমবার (১২ অক্টোবর) বিকেলে নাগেশ্বরী পৌরসভার বলদিটারী মোড় থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করেন বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। মিছিলটি বিভিন্ন সড়ক ঘুরে কলেজ মোড়ে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে মানববন্ধন ও সমাবেশের মাধ্যমে তাঁরা তাঁদের দাবি তুলে ধরেন।
সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করেন, নাগেশ্বরীতে সার ডিলার নিয়োগের ক্ষেত্রে দলীয় বিবেচনা ও অর্থ লেনদেনের বিষয়টি প্রাধান্য পেয়েছে। তাঁদের দাবি, বিএনপির তৃণমূলের নেতাকর্মীদের বঞ্চিত করে আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের পুনর্বাসনের সুযোগ দেওয়া হয়েছে।
বিক্ষোভকারীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, উপজেলার ১৪টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় মোট ১৫ জনকে সার ডিলার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ১০ জন আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে দাবি করেন তাঁরা। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য পাওয়া যায়নি।
নিয়োগপ্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলে বক্তারা উপজেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির সদস্য এবং উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব মোখলেছুর রহমান ও আহ্বায়ক গোলাম রসুল রাজার ভূমিকা নিয়েও সমালোচনা করেন। তাঁদের অভিযোগ, নিয়োগে অনিয়মের বিষয়টি যথাযথভাবে খতিয়ে দেখা হয়নি। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দুই নেতার বক্তব্য জানা যায়নি।
সমাবেশে বক্তারা আওয়ামী লীগের দীর্ঘ শাসনামলে বিএনপির নেতাকর্মীদের ওপর নির্যাতন-নিপীড়নের প্রসঙ্গ তুলে বলেন, সেই অভিজ্ঞতার পরও যদি নিয়োগের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ ও তাদের সহযোগীদের সুযোগ দেওয়া হয়, তা তৃণমূলের নেতাকর্মীরা মেনে নেবেন না।
তাঁরা সার ডিলার নিয়োগের পুরো প্রক্রিয়া তদন্ত করে অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে বিতর্কিত নিয়োগ বাতিলের দাবি জানান।
সমাবেশে বক্তব্য দেন নাগেশ্বরী পৌর কৃষকদলের সদস্যসচিব আদম আলী, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক জাহাঙ্গীর আলম ও আলমগীর হোসেন, সাবেক যুবদল নেতা মাইনুদ্দিন এবং ছাত্রনেতা আক্তারুজ্জামান রাশেদসহ স্থানীয় নেতাকর্মীরা।
সার ডিলার নিয়োগ নিয়ে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া গেলে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে।
সদ্য সংবাদ/এসএস