ঢাকার কেরানীগঞ্জে ব্যক্তিগত জমিকে সরকারি রাস্তা হিসেবে দেখিয়ে বসতবাড়ি ভাঙচুর ও জমি দখলচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে শাক্তা ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাইনুদ্দিনের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগীদের দাবি, ভেকু দিয়ে বাড়িঘর ভাঙচুরের পাশাপাশি কয়েক শ কিশোরকে নিয়ে ঘটনাস্থলে হামলা চালানো হয়। জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে ভাঙচুর বন্ধ হয়।
কেরানীগঞ্জ মডেল থানার শাক্তা ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের আরশীনগর এলাকায় কাজল দেওয়ানের বাড়ির পাশে এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী জাহিদা বেগমের অভিযোগ, সকাল ১০টার দিকে মাইনুদ্দিনের নির্দেশে ভেকু দিয়ে তাঁদের বসতবাড়ি ভাঙচুর করে জমি দখলের চেষ্টা করা হয়।
জাহিদা বেগমের দাবি, মাইনুদ্দিনের নির্দেশে বাশার, রাজিবসহ ২০ থেকে ২৫ জন সরাসরি ভাঙচুরে অংশ নেন। এ ছাড়া কয়েক শ কিশোরকে ভাড়ায় এনে ঘটনাস্থলে জড়ো করা হয়েছিল বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
বসতবাড়ি ভাঙচুর হতে দেখে নিরুপায় হয়ে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করেন ভুক্তভোগীরা। খবর পেয়ে কেরানীগঞ্জ মডেল থানা-পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ সময় ভাঙচুর বন্ধ হয়ে যায়।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, ব্যক্তিগত জমিকে সরকারি রাস্তা হিসেবে উপস্থাপন করে জমি দখলের চেষ্টা করা হচ্ছে। অন্যদিকে অভিযুক্ত পক্ষের দাবি, ওই স্থানে রাস্তা নির্মাণের জন্য সরকারি দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে।
তবে উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি), প্রকল্প বাস্তবায়ন কার্যালয় ও শাক্তা ইউনিয়ন পরিষদে খোঁজ নিয়ে ওই দরপত্রের দাবির সত্যতা পাওয়া যায়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে জায়গাটি সরকারি রাস্তা কি না, সেখানে কোনো অনুমোদিত প্রকল্প রয়েছে কি না এবং জমির প্রকৃত মালিক কে এসব বিষয়ে সরকারি নথিপত্র যাচাই করে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
অভিযোগের বিষয়ে মাইনুদ্দিনের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জমি দখল ও বাড়িঘর ভাঙচুরের অভিযোগ অস্বীকার করেন। নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন তিনি।
এদিকে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (কেরানীগঞ্জ সার্কেল) জামিলুল হক বলেন, “৯৯৯-এ কল পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। পুলিশ সেখানে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে। পরে ভুক্তভোগীরা থানায় অভিযোগ দায়ের করেন।”
এলাকাবাসীর অভিযোগ, মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে একটি চক্র ব্যক্তিগত জমি দখলের চেষ্টা করছে। এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে জমির মালিকানা, রাস্তার সরকারি অনুমোদন এবং ভাঙচুরে জড়িত ব্যক্তিদের ভূমিকা তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। একই সঙ্গে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষীদের আইনের আওতায় আনার আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
সদ্য সংবাদ/ এআর