সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওকে কেন্দ্র করে ওঠা অভিযোগের পর ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ভোলা জেলা দক্ষিণ শাখার সেক্রেটারি মাওলানা আব্বাস উদ্দিনকে দলীয় পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার কথা জানিয়ে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিয়েছে দলটি। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে ভিডিওটি ছড়িয়ে দেওয়ার পেছনে ষড়যন্ত্রের দাবি করেছেন আব্বাস উদ্দিন।
সোমবার (১২ অক্টোবর) রাতে দলটির ভোলা জেলা দক্ষিণ শাখার পক্ষ থেকে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে স্বাক্ষর করেন শাখার প্রচার সম্পাদক মাওলানা নুরুল ইসলাম। মঙ্গলবার দুপুরে তিনিও বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
দলীয় বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, আব্বাস উদ্দিনের বিরুদ্ধে ওঠা চারিত্রিক স্খলনের অভিযোগ তদন্ত করে প্রাথমিকভাবে সত্যতা পাওয়ায় তাকে সাংগঠনিক দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। তার স্থলে জেলা কমিটির জয়েন্ট সেক্রেটারি মাওলানা সালাউদ্দিনকে ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দলীয় কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি একটি কওমি মাদ্রাসার পরিচালনার দায়িত্বেও রয়েছেন আব্বাস উদ্দিন। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে এক নারীর সঙ্গে তার ভিডিও কলে আপত্তিকর কথোপকথনের দৃশ্য রয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। ভিডিওটি প্রকাশ্যে আসার পর বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনা তৈরি হয়।
এ ঘটনায় আগেই পদক্ষেপ নিয়েছিল ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় কমিটি। গত রোববার আব্বাস উদ্দিনকে সাময়িকভাবে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দিয়ে অভিযোগ খতিয়ে দেখতে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির নেতৃত্বে রয়েছেন ভোলা দক্ষিণ জেলা শাখার সভাপতি কামাল উদ্দিন।
এদিকে, ভিডিওতে থাকা নারীকে নিজের স্ত্রী হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন আব্বাস উদ্দিন। তার ভাষ্য, ভিডিওটি কয়েক মাস আগের এবং যে ফোনে সেটি রাখা ছিল, তা সম্প্রতি চুরি হয়েছে। তিনি দাবি করেন, পরিকল্পিতভাবে ভিডিওটি ছড়িয়ে দিয়ে রাজনৈতিকভাবে তার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
সদ্য সংবাদ/এসএস