চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ছিনিয়ে নিতে চালক মো. আব্দুল নুর তুষারকে হত্যার ঘটনায় সাতজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তদন্তে সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে অভিযুক্তদের গতিবিধি শনাক্ত করা হয়। পরে তাঁদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ছিনতাই করা অটোরিকশার তিনটি ব্যাটারি ও বিভিন্ন অংশ উদ্ধার করা হয়েছে।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে এ তথ্য জানানো হয়।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত ১ অক্টোবর হাটহাজারী উপজেলার চিকনদণ্ডী ইউনিয়নের যোগীরহাট থেকে খন্দকিয়া বাজারের দিকে যাওয়া একটি ইটের সলিং রাস্তার পাশের বিলে তুষারের মরদেহ পাওয়া যায়। তাঁর গলায় রশি ও গামছা প্যাঁচানো ছিল। তবে ঘটনাস্থলে অটোরিকশাটি পাওয়া যায়নি।
ঘটনার পর তদন্তে নামে পুলিশ। তুষারের বাড়ি থেকে হাটহাজারী পর্যন্ত দুই শতাধিক সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ পরীক্ষা করে তাঁর চলাচলের পথ এবং হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহভাজনদের গতিবিধি শনাক্ত করা হয়।
তদন্তসংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, বায়েজিদ বোস্তামী থানার কুলগাঁও এলাকায় সাদ-মুছা গার্মেন্টস ফ্যাক্টরির সামনে থেকে তুষারের অটোরিকশা ভাড়া নেয় অভিযুক্তরা। পরে তাঁকে নির্জন স্থানে নিয়ে রশি ও গামছা দিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। এরপর মরদেহ পাশের বিলে ফেলে অটোরিকশা ও তাঁর মোবাইল ফোন নিয়ে চলে যায় তারা।
পুলিশ জানায়, ছিনতাই করা অটোরিকশাটি বিক্রির উদ্দেশ্যে হাটহাজারীর ঠাণ্ডাছড়ি এলাকায় নেওয়া হয়। পরে সেটি একটি মেরামতের গ্যারেজে রাখা হয়। এ সূত্র ধরে হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের পাশাপাশি অটোরিকশা কেনাবেচার সঙ্গে সংশ্লিষ্টদেরও শনাক্ত করা হয়।
গত ১৫ অক্টোবর সন্ধ্যা থেকে ১৬ অক্টোবর রাত পর্যন্ত চৌধুরীহাট, সন্দ্বীপ কলোনি ও ঠাণ্ডাছড়ি এলাকায় অভিযান চালিয়ে ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁরা হলেন ইমরান হোসেন আপন (২৩), মো. বাবলু (২৫), মো. আখতার হোসেন (৩৬), মো. মারুফ (২৫), গোলাপ মোস্তফা (৩৫) ও মো. আলাউদ্দিন (২৫)।
চট্টগ্রামের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ট্রাফিক) রাসেল পুলিশ জানান, গ্রেপ্তার ইমরান হোসেন আপনকে জিজ্ঞাসাবাদে হত্যার পরিকল্পনা ও অটোরিকশা ছিনতাইয়ের বিষয়ে তথ্য পাওয়া গেছে। এ ছাড়া অটোরিকশা কেনাবেচার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের কাছ থেকেও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মিলেছে। তাঁদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আকতার হোসেনের গ্যারেজ থেকে অটোরিকশার তিনটি ব্যাটারি ও বডির বিভিন্ন অংশ উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় এর আগে গত ৭ অক্টোবর মো. রাসেল (২৫) নামে আরও একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। তাঁর কাছ থেকে তুষারের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনের সিম উদ্ধার করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।
হত্যাকাণ্ডে জড়িত অন্য পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে বলে জানিয়েছে জেলা পুলিশ।
সদ্য সংবাদ/এসএস