নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে ওয়াজ মাহফিলের আয়োজক কমিটিতে নাম না থাকা নিয়ে বিরোধের জেরে রিপন মিয়া নামে এক যুবদল নেতাকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। রোববার (১৮ অক্টোবর) রাত সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার ভোলাবো ইউনিয়নের পাইসকা কুলি মার্কেট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত রিপন মিয়া পাইসকা এলাকার বাসিন্দা মৃত শহিদুল্লাহর ছেলে। তিনি ভোলাবো ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সহসভাপতি ছিলেন। রাজনীতির পাশাপাশি কাঠের ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তিনি।
নিহতের পরিবারের অভিযোগ, গত ৬ ও ৭ অক্টোবর স্থানীয় যুবসমাজের উদ্যোগে আয়োজিত একটি ওয়াজ মাহফিলের কমিটিতে রিপন মিয়াসহ এলাকার কয়েকজন গণ্যমান্য ব্যক্তি ছিলেন। তবে স্থানীয় কয়েকজনের নাম কমিটিতে না থাকাকে কেন্দ্র করে অসন্তোষ তৈরি হয়। এ নিয়ে রিফাত কাজী ও তাঁর লোকজনের সঙ্গে রিপনের বিরোধ চলছিল বলে দাবি পরিবারের সদস্যদের।
পরিবারের আরও অভিযোগ, এলাকায় মাদকবিরোধী অবস্থান নেওয়ার কারণেও রিপনের ওপর ক্ষুব্ধ ছিলেন অভিযুক্ত ব্যক্তিরা। ঘটনার দিন সন্ধ্যায় তাঁদের সঙ্গে রিপনের কথা-কাটাকাটি হয়। পরে রাত সাড়ে ১১টার দিকে রিফাত কাজী, ফরহাদ কাজী, তানভীর কাজী, আমিরুল কাজী ও ইমন কাজীসহ ৫০ থেকে ৬০ জনের একটি দল ধারালো অস্ত্র নিয়ে তাঁর ওপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এ সময় রিপন মিয়াকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর আহত করা হয়। একপর্যায়ে তাঁর মৃত্যু হয়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ নারায়ণগঞ্জ সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এএইচএম সালাউদ্দিন হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে রিপন মিয়াকে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
সদ্য সংবাদ/এসএস