শেরপুর সদর উপজেলার ১১ নং বলাইরচর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় মাদক কেনাবেচা ও জুয়ার আসর বসার অভিযোগ উঠেছে। এসব কর্মকাণ্ডে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। মাদক ও জুয়ার বিস্তার রোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ইউনিয়নের কয়েকটি এলাকায় মাদক কেনাবেচা ও জুয়ার আসরকে কেন্দ্র করে সামাজিক নিরাপত্তা বিঘ্নিত হচ্ছে। পাশাপাশি চুরির ঘটনা বৃদ্ধি, যুবসমাজের বিপথগামিতা এবং সামাজিক অবক্ষয়ের আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর নজরদারি ও নিয়মিত অভিযান পরিচালনার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ইউনিয়নের ধোবারচর, দোছরা-ছনকান্দা, চকসাহাব্দী, বলাইরচর এবং জঙ্গলদী আমতলা মোড়সহ আশপাশের কয়েকটি স্থানে মাদক কেনাবেচা ও জুয়ার আসর বসার অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, সন্ধ্যার পর কিছু এলাকায় মাদক কেনাবেচার তৎপরতা বাড়ে। রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দীর্ঘদিন থেকে এসব এলাকার বেশ কিছু স্থানে বড় ধরনের জুয়ার আসর বসিয়ে লক্ষ লক্ষ অবৈধ টাকা ডুকছে একটি মহলের পকেটে এমনটাই অভিযোগ রয়েছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা জানান, এসব কর্মকাণ্ডের কারণে এলাকার স্বাভাবিক পরিবেশ ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে তরুণদের একটি অংশ মাদক ও জুয়ার সংস্পর্শে জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। তাঁদের দাবি, জুয়ার আসরে মোটা অংকের অর্থ লেনদেনের পাশাপাশি মাদক কেনাবেচার বিস্তার পরিবার ও সমাজে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
এলাকাবাসীর আশঙ্কা, অভিযোগগুলোর যথাযথ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটতে পারে। এতে সাধারণ মানুষের নিরাপদে চলাচল ও বসবাসের পরিবেশও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এ অবস্থায় মাদক কেনাবেচা ও জুয়ার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে তাঁদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। পাশাপাশি অভিযোগ ওঠা এলাকাগুলোতে নিয়মিত নজরদারি, প্রয়োজনীয় অভিযান এবং তরুণদের মাদক ও জুয়া থেকে দূরে রাখতে সচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদারের আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা।
এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট প্রশাসন অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে। এতে বলাইরচর ইউনিয়নে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হবে এবং স্থানীয় বাসিন্দারা নিরাপদ পরিবেশে বসবাসের সুযোগ পাবেন।
এ বিষয়ে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ও প্যানেল চেয়ারম্যান রাজনৈতিক মামলায় জেলে থাকায় তাদের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
সদ্য সংবাদ/এসকে