বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য একসঙ্গে ১০টি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুটেক্স) সাবেক শিক্ষার্থী সাকিব আল মুনতাসির। এর মধ্যে দুটি বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডি এবং আটটিতে মাস্টার্স করার সুযোগ পেয়েছেন তিনি।
বুটেক্সের ৪৪তম ব্যাচের শিক্ষার্থী সাকিব আল মুনতাসির ওয়েট প্রসেস ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ থেকে ৩ দশমিক ৬১ সিজিপিএ নিয়ে স্নাতক সম্পন্ন করেন। পড়াশোনার পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সহশিক্ষা কার্যক্রমে সক্রিয় ছিলেন তিনি। দায়িত্ব পালন করেছেন বুটেক্স বিজনেস ক্লাবের সভাপতির।
উচ্চশিক্ষার জন্য পাওয়া সুযোগগুলোর মধ্যে সৌদি আরবের কিং ফাহাদ ইউনিভার্সিটি অব পেট্রোলিয়াম অ্যান্ড মিনারেলসে (কেএফইউপিএম) ম্যাটেরিয়াল সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে পিএইচডির জন্য সম্পূর্ণ অর্থায়িত বৃত্তি পেয়েছেন সাকিব। বৃত্তির আওতায় রয়েছে শিক্ষাব্যয়, আবাসন, যাতায়াত, চিকিৎসাসহ বিভিন্ন সুবিধা।
এ ছাড়া যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব সাউদাম্পটন থেকেও পিএইচডির সুযোগ পেয়েছেন তিনি।
মাস্টার্স পর্যায়ে সাকিবের পাওয়া সুযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে সুইডেনের ইউনিভার্সিটি অব বোরাস, যুক্তরাষ্ট্রের তুলেন ইউনিভার্সিটি, ক্লেমসন ইউনিভার্সিটি, নর্থইস্টার্ন ইউনিভার্সিটি, ইউনিভার্সিটি অব ভার্জিনিয়া এবং যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব ব্রিস্টল, কিংস্টন ইউনিভার্সিটি ও হেরিয়ট-ওয়াট ইউনিভার্সিটি। এসব প্রতিষ্ঠানের কয়েকটি থেকে বৃত্তি এবং গ্র্যাজুয়েট অ্যাসিস্ট্যান্টশিপের মাধ্যমে আর্থিক সহায়তার প্রস্তাবও পেয়েছেন তিনি।
সাকিবের এই অর্জনের পেছনে একাডেমিক ফলাফলের পাশাপাশি গবেষণা ও পেশাগত অভিজ্ঞতাকেও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। স্নাতক শেষে তিনি রিড কনসাল্টেন্সি বাংলাদেশে সাসটেইনেবিলিটি অ্যান্ড সার্কুলারিটি ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কাজ করেন। সেখানে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজ করার পাশাপাশি ৫০টির বেশি টেক্সটাইল কারখানায় উৎপাদন প্রক্রিয়ার উন্নয়ন, গবেষণা, প্রশিক্ষণ ও কারিগরি সহায়তার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
বিশ্ববিদ্যালয়জীবনেও নেতৃত্বের অভিজ্ঞতা অর্জন করেন সাকিব। বুটেক্স বিজনেস ক্লাবের সভাপতির দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি ২০২৪ সালে বুটেক্সে আয়োজিত একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনে হেড অব ভলান্টিয়ার্স হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সংগঠনের সঙ্গেও তার সম্পৃক্ততা ছিল।
উচ্চশিক্ষার আবেদনে ইংরেজি দক্ষতার প্রমাণ হিসেবে আইইএলটিএসে ৭ দশমিক ৫ স্কোর অর্জন করেন তিনি। চাকরির ব্যস্ততার মধ্যেও স্বল্প সময়ের প্রস্তুতিতে কোনো কোচিং ছাড়াই এই স্কোর অর্জন করেন বলে জানান সাকিব।
সরাসরি স্নাতক শেষ করে পিএইচডির সুযোগ পাওয়ার বিষয়ে সাকিব জানান, তার গবেষণার অভিজ্ঞতা, একাডেমিক প্রকাশনা ও পেশাগত দক্ষতা এ ক্ষেত্রে সহায়ক হয়েছে। টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের পাশাপাশি ম্যাটেরিয়াল সায়েন্স ও পলিমার সংশ্লিষ্ট গবেষণায় আগ্রহ থেকেই তিনি বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন করেন।
বিদেশে উচ্চশিক্ষায় আগ্রহী শিক্ষার্থীদের জন্য সাকিবের পরামর্শ- শুধু ভালো ফলাফল বা আইইএলটিএস স্কোরের ওপর নির্ভর না করে একাডেমিক পড়াশোনার পাশাপাশি গবেষণা, পেশাগত অভিজ্ঞতা ও সহশিক্ষা কার্যক্রমে নিজেদের দক্ষতা বাড়াতে হবে। তার মতে, দীর্ঘ এই প্রক্রিয়ায় সফল হতে ধৈর্য, আত্মবিশ্বাস ও ধারাবাহিক প্রচেষ্টা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
ভবিষ্যতে দেশে ফিরে গবেষণার সঙ্গে যুক্ত হওয়ার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের গবেষণায় আগ্রহী করে তুলতে একটি গবেষণা কমিউনিটি গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে সাকিবের।
সদ্য সংবাদ/এসকে