বাংলাদেশের শিক্ষা ও উন্নয়ন খাতে চীনের অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। বিশেষ করে কারিগরি শিক্ষা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, শিল্প-শিক্ষা সহযোগিতা, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও ব্লু ইকোনমির মতো সম্ভাবনাময় খাতে দুই দেশের অভিজ্ঞতা বিনিময়ের কথা তুলে ধরেছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত ‘ঢাকা চায়না ডে ২০২৬’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন শিক্ষামন্ত্রী।
ড. এহছানুল হক মিলন বলেন, বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে। পারস্পরিক আস্থা, সহযোগিতা ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের মাধ্যমে এ সম্পর্ককে আরও বিস্তৃত করার সুযোগ রয়েছে। দেশের উন্নয়নের বিভিন্ন ক্ষেত্রে চীনের অর্জন থেকে শিক্ষা নিয়ে তা বাংলাদেশের বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণভাবে কাজে লাগানো যেতে পারে।
তরুণদের দক্ষতা উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, দেশের ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে শিক্ষার্থীদের ওপর। জনসংখ্যার কাঠামোগত সুবিধা বা ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ডকে কাজে লাগাতে তরুণ প্রজন্মকে দক্ষ ও যোগ্য মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তোলা জরুরি। এ ক্ষেত্রে চীনের অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের জন্য সহায়ক হতে পারে।
শিল্প ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে কার্যকর যোগাযোগ তৈরির ওপরও জোর দেন তিনি। এ ক্ষেত্রে চীনের ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমিয়া লিংকেজ অনুসরণ করা যেতে পারে বলে মন্তব্য করেন শিক্ষামন্ত্রী। সেই অভিজ্ঞতার আলোকে ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটকে একটি মডেল প্রতিষ্ঠানে রূপ দেওয়ার কাজ চলছে বলেও জানান তিনি। পাশাপাশি চাঁদপুর পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের উন্নয়নেও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতির প্রসঙ্গ তুলে ধরে ড. এহছানুল হক মিলন বলেন, সৌরবিদ্যুৎ ও পরিবেশবান্ধব জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর পাশাপাশি বৈদ্যুতিক যান, সবুজ প্রযুক্তি ও আধুনিক পরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়নে সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে। রোবটিক্স এবং সমুদ্রভিত্তিক অর্থনীতি বা ব্লু ইকোনমির ক্ষেত্রেও চীনের অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর সুযোগ রয়েছে।
বাংলাদেশকে ভবিষ্যতে একটি ‘এডুকেশন হাব’ হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথাও জানান শিক্ষামন্ত্রী। আন্তর্জাতিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে অংশীদারত্বের মাধ্যমে উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়ন এবং ‘ক্রস-বর্ডার এডুকেশন’ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বলেন, দুই দেশের সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে তরুণ প্রজন্ম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশের শিক্ষা ও উন্নয়ন খাতে চীনের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. ফরাসউদ্দিন এবং উপাচার্য অধ্যাপক শামস রহমান বক্তব্য দেন।
সদ্য সংবাদ/এসএস