সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ২০২৭ শিক্ষাবর্ষে প্রথম শ্রেণিতে ভর্তির জন্য লটারির মাধ্যমে শিক্ষার্থী বাছাই করা হবে। অন্যদিকে দ্বিতীয় থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত ভর্তি কার্যক্রম সম্পন্ন হবে লিখিত পরীক্ষার ভিত্তিতে। এসব শ্রেণিতে কেবল শূন্য আসনের বিপরীতে শিক্ষার্থী নেওয়া হবে।
মঙ্গলবার রাতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জারি করা ‘সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ভর্তি নীতিমালা, ২০২৭’-এ ভর্তির এ পদ্ধতি নির্ধারণ করা হয়েছে। নীতিমালায় স্বাক্ষর করেছেন মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সরকারি মাধ্যমিক-১ শাখার উপসচিব তানিয়া ফেরদৌস। তবে বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ভর্তির বিষয়ে এখনো পৃথক নীতিমালা প্রকাশ করা হয়নি।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, সরকারি বিদ্যালয়ের ভর্তি নীতিমালার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নীতিমালাও প্রণয়ন করা হতে পারে। এ বিষয়ে নীতিমালা শিগগির প্রকাশের প্রস্তুতি চলছে।
সরকারি বিদ্যালয়ের নতুন নীতিমালায় প্রথম শ্রেণিতে ভর্তির ক্ষেত্রে লটারির মাধ্যমে শিক্ষার্থী নির্বাচন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। ভর্তির আবেদন করার সময় একজন শিক্ষার্থী পছন্দের সর্বোচ্চ পাঁচটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নাম দিতে পারবে। কোনো দ্বৈত শিফটের বিদ্যালয়ের দুই শিফটেই ভর্তির পছন্দ জানানো হলে সেগুলো আলাদা দুটি পছন্দ হিসেবে বিবেচিত হবে। তবে একই প্রতিষ্ঠানে একাধিক আবেদন জমা দিলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীর সব আবেদন বাতিল করা হবে।
দ্বিতীয় থেকে নবম শ্রেণিতে ভর্তির ক্ষেত্রে লিখিত পরীক্ষায় প্রাপ্ত নম্বরের ভিত্তিতে মেধাক্রম তৈরি করে শিক্ষার্থী নির্বাচন করতে হবে। পাশাপাশি নির্বাচিতদের তালিকার বাইরে শূন্য আসনের সমানসংখ্যক প্রার্থীকে রেখে অপেক্ষমাণ তালিকাও তৈরি করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
এর আগে গত ৬ আগস্ট শিক্ষা মন্ত্রণালয় ঘোষণা করেছিল, ২০২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে প্রথম শ্রেণিতে ভর্তির জন্য আর পরীক্ষা নেওয়া হবে না; এ শ্রেণিতে শিক্ষার্থী নির্বাচন হবে লটারিতে। তবে দ্বিতীয় ও পরবর্তী শ্রেণিগুলোতে ভর্তি পরীক্ষা বহাল থাকবে বলে তখন জানানো হয়েছিল।
বেসরকারি বিদ্যালয়ের ভর্তি নীতিমালা প্রসঙ্গে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের বেসরকারি মাধ্যমিক অধিশাখার যুগ্ম সচিব মো. হেলালুজ্জামান সরকার মঙ্গলবার আজকের পত্রিকাকে বলেন, সাধারণত সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ভর্তি নীতিমালা অনুসরণ করেই বেসরকারি বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হয়। বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের জন্যও শিগগির নীতিমালা জারি করা হবে।
নতুন নীতিমালা অনুসারে, দ্বিতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণির ভর্তি পরীক্ষা হবে ৫০ নম্বরে। এর মধ্যে বাংলা বিষয়ে ১৫, ইংরেজিতে ১৫ এবং গণিতে ২০ নম্বর বরাদ্দ থাকবে। পরীক্ষার জন্য সময় পাওয়া যাবে এক ঘণ্টা।
ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণির ক্ষেত্রে পরীক্ষার মোট নম্বর নির্ধারণ করা হয়েছে ১০০। এ স্তরে বাংলায় ৩০, ইংরেজিতে ৩০ এবং গণিতে ৪০ নম্বরের পরীক্ষা দিতে হবে। পরীক্ষার সময়সীমা হবে দুই ঘণ্টা।
এর আগে সরকারি ও বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে দ্বিতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণিতে লটারির মাধ্যমে শিক্ষার্থী ভর্তির উদ্যোগ নিয়েছিল সরকার। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) প্রণীত ২০২৬ সালের শিক্ষার্থী ভর্তি নীতিমালার খসড়ায় এ প্রস্তাব অন্তর্ভুক্ত ছিল।
মাউশির সহকারী পরিচালক (মাধ্যমিক-২) এস এম মোসলেম উদ্দিন এ বিষয়ে বলেন, দ্বিতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত লটারির মাধ্যমে শিক্ষার্থী ভর্তির প্রস্তাব দিয়েছিল অধিদপ্তর। তবে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ সংশ্লিষ্ট সবার মতামত বিবেচনা করে দ্বিতীয় থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত ভর্তি পরীক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থী নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
দেশের সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতে প্রথম শ্রেণির ভর্তি পরীক্ষার পরিবর্তে ২০১১ শিক্ষাবর্ষে প্রথমবারের মতো লটারিপদ্ধতি চালু করা হয়। পরের বছর বেসরকারি বিদ্যালয়েও এ ব্যবস্থা কার্যকর হয়। সে সময় দ্বিতীয় থেকে নবম শ্রেণিতে ভর্তি পরীক্ষা চালু ছিল। কিন্তু করোনা মহামারির পরিস্থিতিতে ২০২১ শিক্ষাবর্ষ থেকে সব শ্রেণিতে লটারির মাধ্যমে শিক্ষার্থী ভর্তি শুরু হয়। এরপর থেকে এ পদ্ধতিতেই ভর্তি কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছিল।
চলতি বছরের ১৫ মার্চ জাতীয় সংসদে স্কুলে লটারির মাধ্যমে শিক্ষার্থী ভর্তির পদ্ধতি নিয়ে কঠোর সমালোচনা করেন কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার) আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ। এর পরদিন ১৬ মার্চ শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তির ক্ষেত্রে লটারিপদ্ধতি বাতিলের ঘোষণা দেন। সেদিন সচিবালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘ভর্তিতে (স্কুলে) আমরা লটারির পরিবর্তে পরীক্ষা নেওয়ার ব্যবস্থা করতে যাচ্ছি। আমরা লটারি সিস্টেম উইথড্র (প্রত্যাহার) করলাম।’
শিক্ষামন্ত্রীর এ ঘোষণার পর প্রাথমিক স্তরে ভর্তি পরীক্ষা চালুর সম্ভাবনা নিয়ে উদ্বেগ জানান কয়েকজন শিক্ষাবিদ ও শিক্ষাসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি। তাঁদের আশঙ্কা, পরীক্ষাভিত্তিক ভর্তি চালু হলে শিশুদের ওপর অতিরিক্ত মানসিক চাপ সৃষ্টি হতে পারে। একই সঙ্গে কোচিং ও ব্যক্তিগত শিক্ষকের ওপর নির্ভরশীলতাও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। সূত্র: আজকের পত্রিকা
সদ্য সংবাদ/ এআর