মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর পদ হারানো নিয়ে বিএনপি নেতা ইশরাক হোসেনকে ঘিরে যখন রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা তুঙ্গে, তখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পোস্ট দিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছেন জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদির। পোস্টে সরাসরি ইশরাকের নাম উল্লেখ না করলেও নেটিজেনদের ধারণা, তাঁকে ইঙ্গিত করেই কথাগুলো লিখেছেন সালমান।
মঙ্গলবার (১৯ অক্টোবর) নিজের পোস্টে সালমান লেখেন, ‘ব্রো’র অবস্থা আমার মতো। কাইজ্জা করে অন্য সবাই, দিন শেষে লস আমার।’
‘ব্রো’ বলতে কাকে বুঝিয়েছেন, তা অবশ্য স্পষ্ট করেননি এই কনটেন্ট ক্রিয়েটর। তবে মন্তব্যের ঘরে অনেকেই দাবি করছেন, পোস্টটি মূলত প্রতিমন্ত্রীর পদ হারানো বিএনপি নেতা ইশরাক হোসেনকে ঘিরেই।
এমন ব্যাখ্যার জেরেই পোস্টটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। মাত্র দুই ঘণ্টায় এতে ৪৫ হাজারের বেশি প্রতিক্রিয়া জমা পড়ে। শেয়ারও হয়েছে অসংখ্যবার। পাশাপাশি পোস্টের মন্তব্যের ঘরে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপে মেতে ওঠেন নেটিজেনরা।
একজন মন্তব্য করেন, ‘ভাই খোঁচাটা আসল জায়গায় মারলেন’ আবার কেউ লিখেছেন, ‘এভাবে খোঁচা মারা যায়।’
‘উদ্ভট’ নামের একটি আইডি থেকে মন্তব্য করা হয়, ‘কালো বন্দুক always কট দেয়, হোক সেটা ডিবি হারুনের অথবা ইশরাকের।’
সম্প্রতি বিমানবন্দরের ভোগান্তি নিয়ে ভিডিও তৈরি করে আলোচনায় আসা ড. ওরাকাতুল জান্নাতও পোস্টটির মন্তব্যে নিজের প্রতিক্রিয়া জানান। তিনি লেখেন, ‘আমাদের ভাগ্যটাই এমন কাইজ্জায় অংশগ্রহণ শূন্য কিন্তু ক্ষতিগ্রস্তের তালিকায় নাম এক নম্বরে!’
শেখ সাজ্জাদ নামের একটি আইডি থেকে সালমানকে উদ্দেশ করে লেখা হয়, ‘ব্রো তো মেয়র হয়ে কামব্যাক দেবেন দুদিন পর, তোমার কামব্যাক কবে দেখব?’
অন্যদিকে, কয়েকজন নেটিজেন মজার ছলে সালমান ও ইশরাককে একসঙ্গে রাজনৈতিক দল গঠনের পরামর্শও দিয়েছেন। তাঁদের একজনের মন্তব্য, ‘ব্রো আর তুমি মিলে একটা রাজনৈতিক দল গড়ো, আমরা তাতে যোগ দেব।’
এর আগে রাজধানীর ইসিবি চত্বরে সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। অভিযোগ অনুযায়ী, পাঁচটি পিকআপে করে দুই থেকে তিন শ ব্যক্তি নিউগিনি প্রপার্টিজের মূল ফটকে জড়ো হন। পরে ফটক ভেঙে গুলি ছুড়তে ছুড়তে তাঁরা ভেতরে প্রবেশ করেন। এ সময় সালমানের স্টুডিওসহ আশপাশের কয়েকটি বাড়ি ও স্থাপনায় ভাঙচুর চালানো হয় এবং লুটপাটের ঘটনা ঘটে। পুলিশের ভাষ্য, জমিজমা নিয়ে বিরোধের জেরে এ হামলার ঘটনা ঘটেছে।
এদিকে, সোমবার রাত থেকেই গণমাধ্যমের শীর্ষ সংবাদে উঠে আসেন বিএনপি নেতা ইশরাক হোসেন। রাজধানীর একটি এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযানে গিয়ে অস্ত্র উঁচিয়ে সমালোচনার মুখে পড়েন তিনি। ওই রাতেই প্রধানমন্ত্রী তাঁকে প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগের নির্দেশ দিয়েছেন এমন খবর ছড়িয়ে পড়ে। তবে ইশরাক তখন খবরটিকে গুজব ও ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন। পরদিন, মঙ্গলবার, তিনি পদত্যাগ করেন।
সদ্য সংবাদ/এআর