কানাডার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যিক টানাপোড়েনের মধ্যেই নতুন করে আলোচনায় এসেছে লেক অন্টারিওর নাম পরিবর্তনের প্রসঙ্গ। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রের সীমান্তবর্তী এই বৃহৎ হ্রদের নাম বদলে ‘লেক আমেরিকা’ করার বিষয়টি বিবেচনা করছে তাঁর প্রশাসন।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে এ মন্তব্য করেন ট্রাম্প। একই পোস্টে তিনি ভবিষ্যতে অন্টারিওর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যিক সম্পর্ক কমে আসতে পারে বলেও মন্তব্য করেন।
পরে ‘লেক আমেরিকা’ নাম ব্যবহার করে একটি মানচিত্রও প্রকাশ করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
ট্রাম্পের এমন মন্তব্য এসেছে কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্কের টানাপোড়েনের সময়। দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর কানাডার গাড়ি, ট্রাক, যন্ত্রাংশ ও ইস্পাতসহ বিভিন্ন পণ্যের ওপর শুল্ক বাড়ানোর হুমকি দিয়েছেন ট্রাম্প। জবাবে শত শত মার্কিন পণ্যে পাল্টা শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছে কানাডা।
তবে লেক অন্টারিওর নাম পরিবর্তনের বিষয়ে কানাডা সরকার তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি। দেশটির যুক্তরাষ্ট্রবিষয়ক বাণিজ্যমন্ত্রী ডমিনিক লেব্ল্যাঙ্ক জানিয়েছেন, ট্রাম্প বা তাঁর প্রশাসনের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রতিটি বক্তব্যের জবাব না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে অটোয়া।
উত্তর আমেরিকার পাঁচটি বৃহৎ হ্রদের একটি লেক অন্টারিও। এর উত্তর তীরে কানাডার অন্টারিও প্রদেশ এবং দক্ষিণে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্য। আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত এই হ্রদের নাম একতরফাভাবে পরিবর্তন করা সম্ভব কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।
এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক আইনি প্রক্রিয়া শুরু করার ঘোষণা দেয়নি যুক্তরাষ্ট্র। ফলে ট্রাম্পের মন্তব্য আপাতত রাজনৈতিক বক্তব্য হিসেবেই সামনে এসেছে।
এর আগে ২০২৫ সালে ট্রাম্পের একটি নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে ‘গালফ অব মেক্সিকো’র পরিবর্তে ‘গালফ অব আমেরিকা’ নাম ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এবার লেক অন্টারিওর নাম পরিবর্তনের প্রসঙ্গ সামনে আসায় কানাডা-যুক্তরাষ্ট্রের চলমান উত্তেজনায় বিষয়টি নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
সদ্য সংবাদ/এসকে