যুক্তরাষ্ট্রের একটি ফেডারেল আদালতের বিচারকের বিরুদ্ধে এক নারী পুলিশ কর্মকর্তার সঙ্গে দীর্ঘদিনের বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। অভিযোগের তদন্ত শেষে ওই বিচারককে বিচারিক দায়িত্ব থেকে স্থায়ীভাবে অপসারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
আদালতসংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানা গেছে, প্রায় দুই বছর ধরে ওই বিচারকের সঙ্গে নারী পুলিশ কর্মকর্তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। অভিযোগের আরও গুরুতর দিক হলো, আদালতের বাইরে সম্পর্কের পাশাপাশি বিচারকের নিজ চেম্বারেও তাদের একাধিকবার আপত্তিকর অবস্থায় দেখা গেছে।
ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসে আদালতের একজন কর্মীর মাধ্যমে। ওই কর্মী বিচারকের চেম্বারে দুজনকে আপত্তিকর অবস্থায় দেখতে পান। পরে তিনি বিষয়টি লিখিতভাবে আদালতের প্রধান বিচারপতিকে জানান।
অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি খতিয়ে দেখতে সাত সদস্যের একটি বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটি সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য, ঘটনাসংক্রান্ত তথ্য ও আদালতের পরিবেশে এর প্রভাব পর্যালোচনা করে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়।
তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, বিচারক ও ওই নারী পুলিশ কর্মকর্তার সম্পর্ক দীর্ঘদিন ধরে চলছিল এবং কর্মস্থলেও এর প্রভাব পড়েছিল। তাদের আচরণে আদালতের কয়েকজন কর্মী অস্বস্তিতে পড়েছিলেন বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
প্রাথমিক পর্যায়ে বিচারক অভিযোগ অস্বীকার করলেও তদন্তের একপর্যায়ে তিনি সম্পর্কের বিষয়টি স্বীকার করেন। এরপর তদন্ত কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বিচারকের পদে আর দায়িত্ব পালনের সুযোগ থাকছে না তার। পাশাপাশি বিচার বিভাগীয় কোনো কার্যক্রমে ভবিষ্যতে অংশ নেওয়ার ওপরও স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।
শুধু তাই নয়, আদালতের কর্মীদের কাছে নিজের আচরণের জন্য লিখিতভাবে দুঃখ প্রকাশ ও ক্ষমা চাওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে তাকে।
আদালতসংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, বিচারকের ব্যক্তিগত আচরণ যখন কর্মস্থলের পরিবেশ ও বিচার বিভাগের মর্যাদাকে প্রভাবিত করে, তখন এমন ঘটনায় প্রাতিষ্ঠানিকভাবে জবাবদিহি নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ। এ ঘটনায় তদন্তের পর বিচারকের বিরুদ্ধে নেওয়া শাস্তিমূলক পদক্ষেপও সেই বার্তাই দিচ্ছে।
সদ্য সংবাদ/এসএস