ভারত কখনো সামরিক শক্তি কিংবা আধিপত্যের মাধ্যমে বিশ্বের ওপর প্রভাব বিস্তার করতে চায়নি; বরং মানুষের পাশে দাঁড়ানো, সেবা ও ভালোবাসার মধ্য দিয়ে দেশটি বিশ্বে মর্যাদা অর্জন করেছে এমন মন্তব্য করেছেন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (আরএসএস) প্রধান মোহন ভাগবত।
কানাডার টরন্টোতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি ভারতের ঐতিহ্য ও বৈচিত্র্যের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। তাঁর ভাষ্য, বিপদগ্রস্ত মানুষকে আশ্রয় দেওয়া এবং ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবার প্রতি সম্মান প্রদর্শন ভারতের দীর্ঘদিনের সংস্কৃতির অংশ।
মোহন ভাগবত বলেন, ভারতীয় সমাজের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো অন্যের দুর্দশায় পাশে দাঁড়ানো। বিভিন্ন সময়ে বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে বিপদে পড়া মানুষ ভারতে এসে আশ্রয় পেয়েছেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
ভারতের ইতিহাসের উদাহরণ টেনে আরএসএস প্রধান বলেন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় পোল্যান্ডের বহু মানুষ যখন যুদ্ধের কারণে নিজ দেশ ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে ছিলেন, তখন জামনগরের তৎকালীন রাজা তাদের আশ্রয় দিয়েছিলেন। তাঁর মতে, মানবিকতার এই দৃষ্টান্ত ভারতের ঐতিহ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
সাম্প্রতিক সময়ের আরেকটি উদাহরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির সময় ভারতীয় উদ্ধারকারী বিমান শুধু ভারতের নাগরিকদেরই ফিরিয়ে আনেনি, অন্য কয়েকটি দেশের নাগরিকদেরও নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা করেছিল।
ভারতের আন্তর্জাতিক ভূমিকা সম্পর্কে মোহন ভাগবত বলেন, ইতিহাসে ভারতীয়রা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে গেছেন। কিন্তু অন্য দেশের ভূখণ্ড দখল বা আক্রমণকে ভারতের ঐতিহ্য হিসেবে দেখা যায় না। বরং ভারতীয়রা বিভিন্ন দেশে জ্ঞান, বিজ্ঞান, চিকিৎসা ও জীবনযাপনের নানা ধারণা ছড়িয়ে দিয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি।
ভারতের বহুত্ববাদ নিয়েও বক্তব্য দেন আরএসএস প্রধান। তাঁর মতে, দেশটিতে বিভিন্ন ভাষা, ধর্ম ও জাতিগোষ্ঠীর মানুষের সহাবস্থান রয়েছে। এই বৈচিত্র্যকে তিনি বিশ্বের সৌন্দর্যের একটি অংশ হিসেবে উল্লেখ করেন।
হিন্দু দর্শনের প্রসঙ্গ টেনে মোহন ভাগবত বলেন, পৃথিবীর সব মানুষকে একটি পরিবারের অংশ হিসেবে দেখার ধারণাই এই দর্শনের মূল ভিত্তি। মানুষের মধ্যে বিভেদ বা বিদ্বেষ নয়, বরং পরস্পরের প্রতি সহমর্মিতা ও সেবার মানসিকতাকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত।
তাঁর বক্তব্যে ভারতের শক্তি প্রদর্শনের পরিবর্তে মানবিক মূল্যবোধ, সহনশীলতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার ওপর জোর দেওয়ার বিষয়টি উঠে আসে।
উল্লেখ্য, আরএসএসকে ঘিরে ধর্মীয় মেরুকরণ, সংখ্যালঘুদের প্রতি বৈষম্য এবং উগ্র হিন্দুত্বের অভিযোগ নিয়ে ভারতে ও আন্তর্জাতিক পরিসরে দীর্ঘদিন ধরে বিতর্ক রয়েছে। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে সংগঠনটি নিজেদের সাংস্কৃতিক ও সামাজিক সংগঠন হিসেবে তুলে ধরে।
সদ্য সংবাদ/এসএস