সরকারি প্রতিষ্ঠানের অর্থ ব্যবহার করে ব্যক্তিগত কাজে নিয়োজিত কর্মীদের বেতন দেওয়ার অভিযোগে শ্রীলঙ্কার সাবেক অর্থমন্ত্রী রবি করুনানায়েককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। দেশটির দুর্নীতিবিরোধী সংস্থা ঘুষ ও দুর্নীতির অভিযোগ তদন্ত কমিশন (সিআইএবিওসি) সোমবার তাঁর গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
দীর্ঘ সময় জিজ্ঞাসাবাদের পর সাবেক এই মন্ত্রীকে সংস্থাটির হেফাজতে নেওয়া হয়। তাঁর বিরুদ্ধে সরকারি অর্থের অপব্যবহারের অভিযোগ তদন্ত করা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট তদন্ত কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জানা গেছে, রবি করুনানায়েক জাতীয় লটারি বোর্ডের অর্থ থেকে তিন ব্যক্তির বেতন পরিশোধ করেছিলেন। অভিযোগ অনুযায়ী, ওই তিন ব্যক্তি সরকারি প্রতিষ্ঠানের জন্য কাজ না করে সাবেক মন্ত্রীর ব্যক্তিগত কর্মী হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন।
অভিযোগের বিষয়টি সামনে আসার পর তদন্ত শুরু করে সিআইএবিওসি। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাঁকে হেফাজতে নেওয়া হয় এবং পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে।
রবি করুনানায়েক শ্রীলঙ্কার সাবেক প্রেসিডেন্ট রনিল বিক্রমাসিংহের সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিলেন। তাঁর গ্রেপ্তারের ঘটনা এমন সময়ে ঘটল, যখন প্রেসিডেন্ট অনুঢ়া কুমারা দিসানায়েকের নেতৃত্বাধীন সরকার দেশজুড়ে দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে দেশটির সাবেক কয়েকজন মন্ত্রী ও রাজনৈতিক নেতার বিরুদ্ধেও বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে তদন্ত চলছে। চলতি মাসের শুরুতে সাবেক মন্ত্রী কেহেলিয়া রামবুকওয়েলাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁর বিরুদ্ধে শ্রীলঙ্কার শেষ সিংহলি রাজার প্রাসাদ থেকে একটি প্রাচীন পবিত্র পাথর চুরির ঘটনায় সহায়তার অভিযোগ রয়েছে।
২০২২ সালে শ্রীলঙ্কা ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকটে পড়ে। ওই বছরের এপ্রিলে বিপুল বৈদেশিক ঋণের দায় পরিশোধে ব্যর্থ হওয়ার পর দেশটিতে ওষুধসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় বিভিন্ন পণ্যের সংকট দেখা দেয়। সে সময় রামবুকওয়েলা দেশটির স্বাস্থ্যমন্ত্রীর দায়িত্বে ছিলেন।
এদিকে দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট মাহিন্দা রাজাপাকসের পরিবারের ঘনিষ্ঠ কয়েকজন সদস্যের বিরুদ্ধেও অর্থ পাচার, ঘুষ ও হত্যাকাণ্ডসহ বিভিন্ন অভিযোগে তদন্ত বা বিচার কার্যক্রম চলছে। তবে এসব অভিযোগ বরাবরই অস্বীকার করে আসছে রাজাপাকসে পরিবার।
রবি করুনানায়েকের গ্রেপ্তারের মধ্য দিয়ে শ্রীলঙ্কায় চলমান দুর্নীতিবিরোধী অভিযানে রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ আরেকটি ঘটনা যুক্ত হলো। তদন্তের পর তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগের পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ কী হবে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
সদ্য সংবাদ/এসএস