বাংলাদেশসহ ৭৫ দেশের নাগরিকদের অভিবাসী ভিসা স্থগিতের আগের মার্কিন নীতি আদালতের সিদ্ধান্তে বাতিল হলেও নতুন একটি নীতি কার্যকর করতে অভিবাসী ভিসার আবেদন প্রক্রিয়ায় সাময়িক বিরতি দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম এনবিসি নিউজ জানিয়েছে, ‘পাবলিক চার্জ’ নীতি বাস্তবায়নের প্রস্তুতি হিসেবে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে দায়িত্ব পালনরত কনস্যুলার কর্মকর্তাদের নতুন নির্দেশনা সম্পর্কে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। এ কারণেই কিছু সময়ের জন্য অভিবাসী ভিসা প্রক্রিয়ায় এই বিরতি দেওয়া হয়েছে।
নতুন নীতির আওতায় যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সহায়তার ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল হতে পারেন এমন অভিবাসনপ্রত্যাশীদের বিষয়ে আরও কঠোরভাবে যাচাই করা হবে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নতুন নীতির প্রয়োগ সম্পর্কে ধারণা দেওয়ার পর আবেদন প্রক্রিয়া স্বাভাবিক হওয়ার কথা রয়েছে।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক কর্মকর্তার বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই সাময়িক ব্যবস্থা আগস্টের শুরুতে চালু হয়েছে এবং সেপ্টেম্বরের প্রথম থেকে মাঝামাঝি সময়ের মধ্যে তা শেষ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
যেসব আবেদনকারীর আগস্টে ভিসা সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারিত ছিল, তাদের সাক্ষাৎকার বাতিল করা হয়নি। বরং সেগুলো সেপ্টেম্বর, অক্টোবর কিংবা নভেম্বরের জন্য নতুন সময় নির্ধারণ করা হবে।
এতে যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে অবস্থানরত অভিবাসী ভিসাপ্রত্যাশীরা প্রভাবিত হতে পারেন। বিশেষ করে মার্কিন নাগরিকদের পরিবারের সদস্য হিসেবে স্থায়ীভাবে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার আবেদন করা বাবা-মা, স্বামী-স্ত্রী, সন্তান ও ভাই-বোনদের ক্ষেত্রে এর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
তবে মার্কিন কোনো নিয়োগকর্তার পৃষ্ঠপোষকতায় কর্মসংস্থানের মাধ্যমে অভিবাসী ভিসার আবেদনকারীরা এই সাময়িক স্থগিতাদেশের আওতায় থাকছেন না বলে জানিয়েছেন অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা। তাদের যুক্তি, চাকরি ও আয়ের সুযোগ থাকায় এ ধরনের আবেদনকারীদের সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভরশীল হওয়ার ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে কম।
এর আগে চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে আগস্টের মাঝামাঝি পর্যন্ত বাংলাদেশসহ ৭৫ দেশের নাগরিকদের অভিবাসী ভিসা ইস্যুতে স্থগিতাদেশ কার্যকর করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। পরে আদালতের আদেশে সেই নীতি বাতিল হয়ে যায়।
এর মধ্যেই অভিবাসন ব্যবস্থায় আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৬ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে ব্যবসা ও পর্যটন ভিসা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে যারা আশ্রয়ের আবেদন করেছেন বা করছেন, তাদের প্রায় দুই লাখের ভিসা বাতিলের পরিকল্পনা রয়েছে।
এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে একসঙ্গে বিপুলসংখ্যক ভিসা বাতিলের নজির তৈরি হতে পারে। তবে এমন সিদ্ধান্ত আদালতে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে বলে মনে করছেন অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা।
বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প প্রশাসনের সাম্প্রতিক পদক্ষেপগুলোর লক্ষ্য হলো যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ আরও কঠোর করা এবং নতুন করে স্থায়ীভাবে দেশটিতে প্রবেশের সংখ্যা কমিয়ে আনা।
তবে কোনো ব্যক্তি যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে আশ্রয়ের আবেদন করলে তার মূল পর্যটন বা ব্যবসায়িক ভিসা বাতিল হলেও চলমান আশ্রয় প্রক্রিয়া স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ হয়ে যাবে না। সে ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রে তার অবস্থানের বৈধতা মূল ভিসার পরিবর্তে আশ্রয় আবেদনের আইনি অবস্থার ওপর নির্ভর করবে।
সদ্য সংবাদ/এসএস