মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা ও সৌদি আরবে ইয়েমেনের হুথিদের হামলা অব্যাহত থাকলেও বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামে পতন হয়েছে। সৌদি আরব থেকে অপরিশোধিত তেলের সরবরাহ ও রপ্তানি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হতে পারে- বিনিয়োগকারীদের এমন প্রত্যাশাই দামের নিম্নমুখিতায় প্রভাব ফেলেছে বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
সোমবার দিনের শুরুতে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৮১ সেন্ট বা শূন্য দশমিক ৭৮ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ১০৩ দশমিক ০৬ ডলারে নেমে আসে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) অপরিশোধিত তেলের দাম কমেছে ৮৯ সেন্ট বা শূন্য দশমিক ৮৯ শতাংশ। এতে প্রতি ব্যারেলের দাম দাঁড়ায় ৯৯ দশমিক ৪১ ডলার।
এর আগে শনিবার সৌদি আরবের বিভিন্ন স্থাপনা লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার দাবি করে হুথিরা। হামলার লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে দেশটির রাজধানী রিয়াদ এবং রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি সৌদি আরামকোর একটি স্থাপনাও ছিল বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে আসে।
হামলার পরও সৌদি আরবের তেল সরবরাহে বড় ধরনের দীর্ঘমেয়াদি বিঘ্ন ঘটবে না- এমন প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে বাজারে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামলার প্রভাব সামাল দিতে সৌদি আরামকো উপসাগরীয় এলাকা থেকে তেল রপ্তানি বাড়িয়েছে। সেপ্টেম্বরে দেশটির অপরিশোধিত তেল রপ্তানি দৈনিক ৪০ লাখ ব্যারেলের বেশি হয়েছে বলে কেপলারের তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, হুথিদের নিক্ষেপ করা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনগুলো প্রতিহত করা হয়েছে। তবে হামলা ও পাল্টা প্রতিক্রিয়ার কারণে মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি সরবরাহ ও আন্তর্জাতিক নৌপথের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ এখনো রয়েছে।
সৌদি আরবের রপ্তানি কার্যক্রমে সম্ভাব্য পুনরুদ্ধার এবং মধ্যপ্রাচ্য থেকে বাজারে তেলের সরবরাহ অব্যাহত থাকার প্রত্যাশাই আপাতত আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামে চাপ তৈরি করছে।
সদ্য সংবাদ/এসকে