পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের পরিবারের ওপর প্রশাসনের পদক্ষেপ আরও জোরালো হয়েছে। এবার তাঁর দুই বোন ডা. উজমা খান ও নওরীন নিয়াজিকে ৩০ দিনের জন্য আটক করার আদেশ দিয়েছে লাহোরের ডেপুটি কমিশনারের কার্যালয়। এর একদিন আগে ইমরানের আরেক বোন আলিমা খানকেও একই মেয়াদে আটকের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
লাহোরের ডেপুটি কমিশনারের ২০ সেপ্টেম্বরের আদেশ অনুযায়ী, পাঞ্জাব মেইনটেন্যান্স অব পাবলিক অর্ডার (এমপিও) অধ্যাদেশের আওতায় উজমা ও নওরীনের বিরুদ্ধে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তাঁদের কোট লাখপত কেন্দ্রীয় কারাগারে রাখার কথা বলা হয়েছে।
আদেশে দাবি করা হয়েছে, দুই বোনের কর্মকাণ্ড জননিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। পাশাপাশি ৯ মে-র সহিংসতার সঙ্গে তাঁদের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন সভার মাধ্যমে দলীয় কর্মীদের সংগঠিত করার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে এ আটকের ঘটনায় ভিন্ন বক্তব্য দিয়েছে ইমরান খানের দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই)। দলটির কেন্দ্রীয় তথ্যসচিব শেখ ওয়াকাস আকরাম অভিযোগ করেছেন, উজমা ও নওরীনসহ তাঁদের সন্তানদের গভীর রাতে একটি সাঁজোয়া যানে করে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। পিটিআই এ ঘটনাকে মৌলিক অধিকার লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করে নিন্দা জানিয়েছে।
ইমরান খানের ছেলে কাশিম খানও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অভিযোগ করেছেন, তাঁর ফুফু ও পরিবারের সদস্যদের বাসা থেকে জোর করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে এবং তাঁদের আটকের কারণ জানানো হয়নি। এসব অভিযোগের বিষয়ে পিটিআইয়ের পক্ষ থেকে ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়েছে।
এদিকে, ইমরান খানের মুক্তি এবং সংবিধানের শ্রেষ্ঠত্ব প্রতিষ্ঠার দাবিতে আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর দেশব্যাপী কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছে পিটিআই। ইসলামাবাদ অভিমুখে ওই কর্মসূচিকে সামনে রেখে পাঞ্জাবের বিভিন্ন এলাকায় দলটির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ধরপাকড় ও প্রতিরোধমূলক আটকের খবরও পাওয়া যাচ্ছে।
এর আগে রোববার লাহোরের ডেপুটি কমিশনারের নির্দেশে আলিমা খানকে ৩০ দিনের জন্য আটক করা হয়। পুলিশ সূত্রের বরাতে ডন জানিয়েছে, তাঁকে কোট লাখপত কারাগারে নেওয়া হয়েছে।
ফলে ২৭ সেপ্টেম্বরের কর্মসূচিকে ঘিরে পাকিস্তানের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। একই সময়ে ইসলামাবাদে সম্ভাব্য বিক্ষোভ মোকাবিলায় নিরাপত্তা জোরদার করার প্রস্তুতিও নেওয়া হচ্ছে।
সূত্র: দ্য ডন
সদ্য সংবাদ/এসএস