যুদ্ধের ক্ষত নিয়েই স্কুলে গাজার শিশুরা, তাঁবুর নিচে চলছে ক্লাস

সদ্য সংবাদ ডেস্ক
২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১০:২০:৪৭
সংগৃহীত

ধ্বংসস্তূপ আর যুদ্ধের ভয়াবহতা পেরিয়ে আবারও স্কুলে ফিরেছে গাজার শিশুরা। তবে তাদের স্কুলের চিত্র বদলে গেছে পুরোপুরি। নেই পরিচিত শ্রেণিকক্ষ, বেঞ্চ কিংবা পর্যাপ্ত বই-খাতা। কোথাও তাঁবুর নিচে, আবার কোথাও মেঝেতে মাদুর পেতে চলছে পাঠদান।

ফিলিস্তিনি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গাজায় প্রায় ৫ লাখ ৪১ হাজার শিক্ষার্থী নতুন করে শিক্ষাজীবনে ফিরেছে। কিন্তু যুদ্ধের কারণে সরকারি স্কুল ভবনগুলোর ৮৫ শতাংশের বেশি এখন আর পাঠদানের উপযোগী নেই।

যুদ্ধের আগে প্রতিদিন ছয় ঘণ্টা ক্লাস হলেও বর্তমানে শিক্ষার্থীদের জন্য নির্ধারিত হয়েছে মাত্র তিন ঘণ্টার পাঠদান। পাশাপাশি একদিন ক্লাসের পর পরদিন ছুটির ব্যবস্থা করা হয়েছে। দীর্ঘ সংঘাতে সহপাঠীদের হারানো অনেক শিশুর জন্য পরিচিত বন্ধুদের অনুপস্থিতিতেই নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরু করা এখন কঠিন বাস্তবতা।

এক শিক্ষার্থী বলেন, প্রায় তিন বছর পর আবার স্কুলে ফিরেছেন তারা। এখন তাঁবুর ভেতরেই পড়াশোনা করতে হচ্ছে। সেখানে পর্যাপ্ত বাতাস চলাচলের ব্যবস্থাও নেই। যুদ্ধের সময় অনেক বন্ধুকে হারিয়েছেন তারা। শিক্ষা উপকরণের দামও আগের তুলনায় বেড়েছে। এসব সংকটের মধ্যেও পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় জানিয়েছে ওই শিক্ষার্থী।

যুদ্ধ পুরোপুরি শেষ না হওয়ায় সন্তানদের স্কুলে পাঠিয়েও উদ্বেগ কাটছে না অভিভাবকদের। নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা থাকলেও সন্তানদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে তারা স্কুলে পাঠাচ্ছেন।

এক অভিভাবক বলেন, অন্য দেশের শিশুদের মতো তারাও সন্তানদের স্বাভাবিক জীবন দিতে চান। কিন্তু যুদ্ধের কারণে যানবাহনসহ দৈনন্দিন যোগাযোগব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। স্কুলে যাওয়ার পথেও সন্তানের নিরাপত্তা নিয়ে আতঙ্কে থাকতে হয়। যেকোনো সময় হামলার আশঙ্কা রয়েছে বলে জানান তিনি।

ফিলিস্তিনি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, গাজায় যুদ্ধে প্রায় ২২ হাজার শিক্ষার্থী নিহত হয়েছে। শিক্ষা খাতের ৭৭০ জনের বেশি কর্মীও প্রাণ হারিয়েছেন, যাদের মধ্যে ৫৩২ জন শিক্ষক।

এদিকে যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতিতে বিপুলসংখ্যক স্কুল ভবন অচল হয়ে পড়েছে। কিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আবার ‘ইয়েলো লাইন’ হিসেবে চিহ্নিত বাফার জোনের আওতায় পড়ায় সেগুলোও ব্যবহার করা যাচ্ছে না।

যুদ্ধ গাজার শিশুদের কাছ থেকে কেড়ে নিয়েছে তাদের পরিচিত স্কুল, শ্রেণিকক্ষ ও স্বাভাবিক শিক্ষাজীবন। তবু সীমিত সুযোগ আর অনিশ্চয়তার মধ্যেও স্কুলে ফিরে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার মধ্য দিয়ে তাদের ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

সদ্য সংবাদ/এসকে

মন্তব্য (0)

মন্তব্য করুন

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!

বিজ্ঞাপনের জন্য খালি স্পেস

শিরোনাম:
সদ্য. বিশ্বমঞ্চে দেশের জনগণের অধিকার ও উন্নয়নের বার্তা দেবেন প্রধানমন্ত্রী সদ্য. কয়েক দফা কমার পর বিশ্ববাজারে আবার বাড়ল তেলের দাম সদ্য. যুদ্ধের ক্ষত নিয়েই স্কুলে গাজার শিশুরা, তাঁবুর নিচে চলছে ক্লাস সদ্য. খালেদা জিয়ার ছবি পোড়ানোর মামলায় কারাগারে আ.লীগ নেতা সদ্য. নিউইয়র্কে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সদ্য. পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন তারেক রহমান সদ্য. দূরপাল্লায় ২০ পয়সা ও শহরে ১৮ পয়সা কি.মি বাসভাড়া বাড়ানোর প্রস্তাব সদ্য. জাতিসংঘে ভাষণ, ‘আমাদের’ বিরাট পদোন্নতি বলে উচ্ছ্বসিত ড. ইউনূস সদ্য. সংস্কার ছাড়া জ্বালানি সংকটের সমাধান নেই: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী সদ্য. গাজী নজরুলের ৪ দিন ও স্ত্রীর ১ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর সদ্য. বিশ্বমঞ্চে দেশের জনগণের অধিকার ও উন্নয়নের বার্তা দেবেন প্রধানমন্ত্রী সদ্য. কয়েক দফা কমার পর বিশ্ববাজারে আবার বাড়ল তেলের দাম সদ্য. যুদ্ধের ক্ষত নিয়েই স্কুলে গাজার শিশুরা, তাঁবুর নিচে চলছে ক্লাস সদ্য. খালেদা জিয়ার ছবি পোড়ানোর মামলায় কারাগারে আ.লীগ নেতা সদ্য. নিউইয়র্কে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সদ্য. পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন তারেক রহমান সদ্য. দূরপাল্লায় ২০ পয়সা ও শহরে ১৮ পয়সা কি.মি বাসভাড়া বাড়ানোর প্রস্তাব সদ্য. জাতিসংঘে ভাষণ, ‘আমাদের’ বিরাট পদোন্নতি বলে উচ্ছ্বসিত ড. ইউনূস সদ্য. সংস্কার ছাড়া জ্বালানি সংকটের সমাধান নেই: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী সদ্য. গাজী নজরুলের ৪ দিন ও স্ত্রীর ১ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর