ভারতের সবচেয়ে জনবহুল রাজ্য উত্তরপ্রদেশকে চারটি আলাদা রাজ্যে ভাগ করা হবে- এমন দাবি করেছেন রাজ্যটির মন্ত্রী ও সুহেলদেব ভারতীয় সমাজ পার্টির (এসবিএসপি) প্রধান ওম প্রকাশ রাজভর। তাঁর দাবি, জাতিভিত্তিক জনগণনা শেষ হওয়ার পরই রাজ্য পুনর্গঠনের প্রক্রিয়া এগোতে পারে।
রোববার উত্তরপ্রদেশের আম্বেদকরনগরে এক জনসভায় বক্তব্য দেওয়ার সময় রাজভর বলেন, ভবিষ্যতে উত্তরপ্রদেশকে ‘পূর্বাঞ্চল’, ‘মধ্যাঞ্চল’, ‘বুন্দেলখণ্ড’ ও ‘হরিত প্রদেশ’- এই চার ভাগে বিভক্ত করা হবে। এ সময় তিনি দাবি করেন, এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে তাঁর কথা হয়েছে এবং জাতিভিত্তিক জনগণনা শেষ হওয়ার পর রাজ্য ভাগের পথে আর বাধা থাকবে না বলে প্রধানমন্ত্রী তাকে আশ্বস্ত করেছেন।
তবে রাজভরের এই বক্তব্যকে কেন্দ্রীয় বা উত্তরপ্রদেশ সরকারের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত হিসেবে নিশ্চিত করা হয়নি। সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাজ্য ভাগ নিয়ে এখনো কেন্দ্র বা রাজ্য সরকারের কোনো আনুষ্ঠানিক আইন প্রণয়নের উদ্যোগ শুরু হয়নি।
রাজভর আরও দাবি করেন, পৃথক পূর্বাঞ্চল রাজ্য গঠন করা হলে ওই রাজ্যের প্রথম মুখ্যমন্ত্রী রাজভর সম্প্রদায়ের কেউ হবেন। পূর্ব উত্তরপ্রদেশে এই সম্প্রদায়ের উল্লেখযোগ্য রাজনৈতিক প্রভাব রয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।
উত্তরপ্রদেশ ভাগের দাবি অবশ্য নতুন নয়। প্রায় দুই দশক ধরে রাজ্যটিকে ছোট কয়েকটি রাজ্যে ভাগ করার আলোচনা বিভিন্ন সময়ে সামনে এসেছে। ২০১১ সালে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মায়াবতীর নেতৃত্বাধীন বিএসপি সরকার উত্তরপ্রদেশকে চারটি অংশে ভাগ করার একটি প্রস্তাব বিধানসভায় পাস করে কেন্দ্রের কাছে পাঠিয়েছিল। সেই প্রস্তাবে পূর্বাঞ্চল, পশ্চিম প্রদেশ, অবধ প্রদেশ ও বুন্দেলখণ্ড- এই চারটি রাজ্যের কথা বলা হয়েছিল। তবে প্রস্তাবটি বাস্তবায়িত হয়নি।
এর আগে ২০০০ সালে উত্তরপ্রদেশের পার্বত্য অঞ্চল আলাদা করে উত্তরাঞ্চল রাজ্য গঠন করা হয়, যা পরে উত্তরাখণ্ড নামে পরিচিত হয়। এরপর থেকেই রাজ্যের আরও বিভাজন নিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও আঞ্চলিক সংগঠন সময়ে সময়ে দাবি জানিয়ে আসছে।
বর্তমানে উত্তরপ্রদেশে বিজেপির সঙ্গে জোটে রয়েছে রাজভরের দল এসবিএসপি। ২০২৭ সালের বিধানসভা নির্বাচন সামনে রেখে রাজভরের নতুন বক্তব্যে দীর্ঘদিনের উত্তরপ্রদেশ বিভাজনের আলোচনা আবারও রাজনৈতিক অঙ্গনে সামনে এসেছে।
সদ্য সংবাদ/এসকে