মধ্যপ্রাচ্য থেকে অপরিশোধিত তেল সরবরাহ বাড়ার সম্ভাবনা এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইরান কূটনৈতিক যোগাযোগের প্রত্যাশায় বিশ্ববাজারে ফের কমেছে জ্বালানি তেলের দাম। সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইনে কার্যক্রম পুনরায় শুরু হওয়ায় সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ কিছুটা কমেছে। এর প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক বাজারের তেলের দামে।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকালে ব্রেন্ট ক্রুড ও ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট- দুই ধরনের অপরিশোধিত তেলের দামই নিম্নমুখী ছিল। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, আগের দিনের লেনদেনেও ব্রেন্টের দাম ১০০ ডলারের নিচে নেমে আসে।
তেলের বাজারে সাম্প্রতিক স্বস্তির অন্যতম কারণ সৌদি আরবের ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইন পুনরায় চালু হওয়া। ১১ সেপ্টেম্বর ড্রোন হামলার পর পাইপলাইনটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। মঙ্গলবার এটি আবার চালু করা হয় এবং এর মাধ্যমে লোহিত সাগরের বন্দর ইয়ানবুতে অপরিশোধিত তেল পাঠানোর প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
রয়টার্স জানিয়েছে, পাইপলাইনটি স্বাভাবিকভাবে চালু হলে প্রতিদিন প্রায় ৪০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল ইয়ানবুর দিকে পাঠানো সম্ভব হবে, যা বৈশ্বিক সরবরাহের প্রায় ৪ শতাংশের সমান। তবে হামলায় কয়েকটি পাম্পিং স্টেশন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় পূর্ণ সক্ষমতায় ফিরতে কয়েক সপ্তাহ সময় লাগতে পারে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগের সম্ভাবনাও তেলের বাজারে প্রভাব ফেলছে। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনকে ঘিরে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা ফের শুরু হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে বাজারে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। ইরানের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র সামরিক চাপ কমালে ও অবরোধ প্রত্যাহার করলে হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালুর বিষয়েও আলোচনা হতে পারে।
তবে কূটনৈতিক অগ্রগতির সম্ভাবনার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর বক্তব্যও পরিস্থিতিকে অনিশ্চিত করে রেখেছে। ফলে তেলের বাজারে সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতির আশা তৈরি হলেও মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতকে কেন্দ্র করে ঝুঁকি এখনো রয়েছে।
সৌদি আরবের পাশাপাশি ইরাক থেকেও তেল রপ্তানি বাড়ার খবর বাজারে সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়ে ইতিবাচক প্রত্যাশা তৈরি করছে। সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্য থেকে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা এবং কূটনৈতিক উদ্যোগের খবরে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামে নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।
সদ্য সংবাদ/এসকে