জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশন ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও সিএনএনের প্রধান হোয়াইট হাউস সংবাদদাতা কেটলান কলিন্সের মধ্যে উত্তপ্ত কথোপকথন হয়েছে। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বলার সময় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
জাতিসংঘে ট্রাম্পের আগমনকালে তাকে প্রশ্ন করার সুযোগ পান কলিন্স। এ সময় তিনি ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের সমাপ্তি নিয়ে জানতে চান। প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প প্রথমে সিএনএনের উপস্থিতি নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেন এবং কলিন্সকে সেখানে তার সংবাদ সংগ্রহ করা উচিত নয় বলে মন্তব্য করেন।
এরপর কলিন্স জানান, জাতিসংঘ কর্তৃপক্ষ সিএনএনকে সাধারণ পরিষদের উচ্চপর্যায়ের অধিবেশন কাভারের জন্য অনুমোদন দিয়েছে। তবে এ ব্যাখ্যার পরও ট্রাম্প সংবাদ সংগ্রহের বিষয়টি নিয়ে আপত্তি জানান। পরে ইরান যুদ্ধ নিয়ে করা প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, পরিস্থিতিতে অনেক অগ্রগতি হচ্ছে এবং যুক্তরাষ্ট্র ভালো অবস্থানে রয়েছে।
এই ঘটনার আগে ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে কলিন্স ও সিএনএনের সমালোচনা করেন। সেখানে তিনি কলিন্সকে নিয়ে অবমাননাকর ভাষা ব্যবহার করেন এবং জাতিসংঘে সিএনএনের সাংবাদিকদের উপস্থিতি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। পরবর্তী এক পোস্টে সংবাদমাধ্যমগুলো তার প্রেসিডেন্ট পদকে কেন্দ্র করে অতিরিক্ত আগ্রহ দেখাচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এরই মধ্যে ট্রাম্প প্রশাসন সিএনএন, পলিটিকো ও এমএস নাওয়ের সাংবাদিকদের হোয়াইট হাউসের প্রেস পুল ও সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম থেকে বাদ দিয়েছে। ওই সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমগুলো আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে। ফলে নির্বাহী ক্ষমতা, সংবাদ সংগ্রহের সুযোগ এবং সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে আইনি বিরোধও চলমান রয়েছে।
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের এবারের অধিবেশনে ট্রাম্পের অংশগ্রহণের সময় সিএনএনের সাংবাদিকরা জাতিসংঘের নিজস্ব অনুমোদনের ভিত্তিতে ঘটনাস্থলে সংবাদ সংগ্রহ করছেন। ফলে হোয়াইট হাউসের নিষেধাজ্ঞা এবং জাতিসংঘের সংবাদ কাভারের অনুমতির মধ্যে পার্থক্যটিও আলোচনায় এসেছে।
সদ্য সংবাদ/এসএস