জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে বক্তব্য দেওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান না বাড়িয়ে নিউইয়র্ক ত্যাগ করেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। বৃহস্পতিবারই তিনি ইসরায়েলের উদ্দেশে রওনা হন। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমের বরাতে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন প্রতিবেদনে সফর সংক্ষিপ্ত করার বিষয়টি উঠে এসেছে।
নেতানিয়াহুর যুক্তরাষ্ট্র সফর ঘিরে নিরাপত্তা নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে ইসরায়েলি নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের মধ্যে আলোচনা হয়েছে। এসব আলোচনায় পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তার নিউইয়র্কে দীর্ঘ সময় অবস্থান না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে সতর্কতার নির্দিষ্ট বিষয়বস্তু প্রকাশ করা হয়নি।
স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার সকালে নিউইয়র্কে পৌঁছে জাতিসংঘের অধিবেশনে ভাষণ দেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী। এরপর নির্ধারিত সময়ের আগেই সফর শেষ করে দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোও জানিয়েছে, নিউইয়র্কে তার অবস্থান কয়েক ঘণ্টার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল।
এদিকে গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানকে কেন্দ্র করে নিউইয়র্কে নেতানিয়াহুর সফরের সময় বিক্ষোভের আশঙ্কাও ছিল। জাতিসংঘের অধিবেশনকে ঘিরে শহরে আগে থেকেই বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল এবং বিভিন্ন প্রতিবাদ কর্মসূচির পরিকল্পনার খবরও প্রকাশিত হয়েছে।
নেতানিয়াহুর সফরের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রেক্ষাপট হলো আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা। ২০২৪ সালের ২১ নভেম্বর আইসিসি নেতানিয়াহু ও তৎকালীন ইসরায়েলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে পরোয়ানা জারি করে। আদালতের নথিতে অভিযোগগুলোকে ‘alleged’ বা অভিযোগ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ পরিস্থিতিতে জাতিসংঘের অধিবেশনে নেতানিয়াহুর সংক্ষিপ্ত সফর এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত সতর্কতার বিষয়টি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
সদ্য সংবাদ/এসএস