চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের টানাপোড়েনের মধ্যেই চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকে প্রতীকী উপহার দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ওয়াশিংটনে আয়োজিত রাষ্ট্রীয় নৈশভোজে শির হাতে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় প্রতীক ‘বল্ড ঈগল’ বা টাকমাথা ঈগলের এর একটি বিশেষ ভাস্কর্য তুলে দেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) আয়োজিত অনুষ্ঠানে ভাস্কর্যটি উন্মোচন করে ট্রাম্প এটিকে যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীন ও অদম্য চেতনার প্রতীক হিসেবে উল্লেখ করেন। ভাস্কর্যটির নকশা তৈরিতে ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পেরও অংশগ্রহণ ছিল বলে জানান তিনি।
শুধু যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকেই নয়, চীনও এই সফরে বন্ধুত্বের বার্তা দিয়েছে। শি জিনপিং একই দিনে আটলান্টার চিড়িয়াখানায় দুটি পান্ডা পাঠানোর ঘোষণা দেন। পাশাপাশি আগামী পাঁচ বছরে এক লাখ মার্কিন শিক্ষার্থীকে চীনে পড়াশোনার সুযোগ দেওয়ার কথাও জানান তিনি।
দুই নেতার এই উপহার বিনিময়কে যুক্তরাষ্ট্র-চীন সম্পর্কের উত্তেজনা কমানোর প্রতীকী উদ্যোগ হিসেবে দেখছেন কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকেরা। শি জিনপিংয়ের এবারের সফর তিন দিনের এবং এটি ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে দুই নেতার গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকগুলোর একটি।
বৈঠকের আলোচনায় বাণিজ্য, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, তাইওয়ান এবং বিরল খনিজসহ দুই দেশের সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো স্থান পেয়েছে। বিশেষ করে প্রযুক্তি ও বাণিজ্যকে ঘিরে দীর্ঘদিনের প্রতিযোগিতার মধ্যে ওয়াশিংটন ও বেইজিংয়ের মধ্যে স্থিতিশীলতা ধরে রাখার বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে।
এরই মধ্যে দুই দেশের মধ্যে চলমান বাণিজ্য উত্তেজনা নিয়েও আলোচনা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, জাঁকজমকপূর্ণ রাষ্ট্রীয় আয়োজন ও প্রতীকী উপহার বিনিময়ের পাশাপাশি এবারের শীর্ষ বৈঠকের বড় লক্ষ্য হলো দুই দেশের সম্পর্ককে আরও সংঘাতময় পর্যায়ে যাওয়া থেকে ঠেকানো।
যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে বাণিজ্য ও প্রযুক্তি প্রতিযোগিতা অব্যাহত থাকলেও শি জিনপিংয়ের সফরকে দুই দেশের মধ্যে সরাসরি সংলাপের একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সূত্র: বিবিসি
সদ্য সংবাদ/এসএস