জাপানে বসবাসে নতুন শর্ত, দুশ্চিন্তায় বাংলাদেশিসহ লাখো বিদেশি

স
সদ্য সংবাদ ডেস্ক
২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৯:৩৯:৩০
সংগৃহীত

জাপানে দীর্ঘমেয়াদি বসবাস ও স্থায়ীভাবে থেকে যাওয়ার পরিকল্পনা করা বিদেশিদের সামনে নতুন করে তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন। স্থায়ী বসবাসের অনুমতি পেতে আয়, জাপানি ভাষায় দক্ষতা ও আর্থিক সক্ষমতার মতো বিষয়গুলোতে আরও কঠোর শর্ত আরোপের উদ্যোগ নিয়েছে দেশটির সরকার। এর প্রভাব পড়তে পারে বাংলাদেশিসহ দীর্ঘদিন ধরে জাপানে বসবাসরত বিদেশিদের ওপরও।

নতুন নিয়ম ধাপে ধাপে আগামী ১ অক্টোবর থেকে কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে। এতে স্থায়ী বসবাসের আবেদনকারীদের পরিবারের বার্ষিক আয় জাপানের গড় আয়ের চেয়ে বেশি- এমন প্রমাণ দিতে হবে। এপ্রিল থেকে জমা দেওয়া আবেদনগুলোর ক্ষেত্রেও এই আয়সংক্রান্ত শর্ত প্রযোজ্য হবে। পাশাপাশি জাপানি ভাষায় দক্ষতার প্রমাণ এবং নির্দিষ্ট মাত্রার পেনশন সঞ্চয়ের বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা হয়েছে।

জাপানের ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস এজেন্সি বলছে, দেশটিতে বসবাসকারী বিদেশিদের স্বনির্ভরভাবে জীবনযাপন করতে হবে এবং অন্যের ওপর বোঝা হয়ে পড়ার ঝুঁকি ছাড়াই স্থিতিশীল জীবন নিশ্চিত করতে হবে। দেশটির সংশোধিত স্থায়ী বসবাসের নির্দেশিকাতেও আবেদনকারীর সৎ আচরণ, নিজের জীবিকা নির্বাহের সক্ষমতা এবং জাপানে স্থায়ীভাবে বসবাস দেশের স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না- এসব বিষয়কে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রায় আট বছর আগে কাজের জন্য জাপানে যাওয়া বাংলাদেশি প্রযুক্তি প্রকৌশলী আবদুল বর্তমানে উত্তর টোকিওতে স্ত্রীকে নিয়ে বসবাস করছেন। স্থায়ী বসবাস ও নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন তিনি। তবে আবেদন দুটিই প্রত্যাখ্যাত হলে জাপানের বাইরে কাজের সুযোগ খোঁজার প্রস্তুতিও নিচ্ছেন আবদুল।

আলজাজিরাকে তিনি বলেন, ভবিষ্যতে জাপান সরকার নিয়ম আরও কঠোর করবে কি না, তা নিয়ে তিনি নিশ্চিত নন। তাই সম্ভাব্য পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে বিকল্প কর্মসংস্থানের সুযোগ খুঁজছেন তিনি।

জাপানে ১৪ বছর ধরে বসবাসকারী মার্কিন নাগরিক সারাহ নেলকিনও নতুন নিয়ম নিয়ে উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন। তাঁর স্থায়ী বসবাসের আবেদন প্রত্যাখ্যাত হলে নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করার কথা ভাবছেন তিনি। তবে জাপানে দ্বৈত নাগরিকত্ব স্বীকৃত না থাকায় সেক্ষেত্রে মার্কিন নাগরিকত্ব ছাড়তে হতে পারে তাঁকে।

মেইকাই বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতির অধ্যাপক রিসা হাগিওয়ারার মতে, নতুন পরিবর্তনের ফলে জাপানের অভিবাসননীতি আরও বাছাইভিত্তিক ও শর্তনির্ভর হয়ে উঠতে পারে। তাঁর ভাষ্য, জনসংখ্যা কমে যাওয়া ও শ্রমিক সংকটের কারণে জাপানের বিদেশি কর্মীর প্রয়োজন রয়েছে। কিন্তু দীর্ঘমেয়াদি বসবাসের শর্ত কঠিন হলে বিদেশি কর্মীদের কাছে জাপান কতটা আকর্ষণীয় থাকবে, তা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হতে পারে।

এরই মধ্যে জাপানে বিদেশি বাসিন্দার সংখ্যা রেকর্ড পর্যায়ে পৌঁছেছে। দেশটির ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস এজেন্সির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের শেষ নাগাদ জাপানে বিদেশি বাসিন্দার সংখ্যা ছিল ৪১ লাখ ২৫ হাজার ৩৯৫ জন। আগের বছরের তুলনায় এই সংখ্যা বেড়েছে ৩ লাখ ৫৬ হাজার ৪১৮ জন বা ৯ দশমিক ৫ শতাংশ।

অর্থনৈতিক প্রয়োজনের কারণে বিদেশি কর্মীদের ওপর নির্ভরতা বাড়লেও তাদের দীর্ঘমেয়াদি বসবাসের ক্ষেত্রে শর্ত কঠোর করার উদ্যোগ জাপানের অভিবাসননীতি নিয়ে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ফলে দেশটিতে বসবাসরত বাংলাদেশিসহ অন্যান্য বিদেশিদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায়ও পরিবর্তন আসতে পারে বলে আলজাজিরার প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

সদ্য সংবাদ/এসকে

মন্তব্য (0)

মন্তব্য করুন

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!

বিজ্ঞাপনের জন্য খালি স্পেস

শিরোনাম:
সদ্য. আদালতের নির্দেশ ছাড়া একাধিক মামলার সাজা একত্রে গণনার সুযোগ নেই: হাইকোর্ট সদ্য. জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রীর ঐতিহাসিক ভাষণ, অভিনন্দন জানালেন রাষ্ট্রপতি সদ্য. হামের উপসর্গ নিয়ে প্রাণ গেল আরও ৩ জনের সদ্য. ককটেল তৈরির সরঞ্জাম ও ৯ হাজার মুখোশসহ যুবলীগ নেতা গ্রেপ্তার সদ্য. বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারীদের দাঁতভাঙা জবাব দেওয়া হবে: প্রতিমন্ত্রী টুকু সদ্য. ইমরান সমর্থকদের মিছিল ঠেকাতে ইসলামাবাদ লকডাউন সদ্য. মেসির পর আর্জেন্টিনার নতুন অধিনায়ক রোমেরো সদ্য. সরকারি চাকরি করেও নতুন পে স্কেলের সুবিধা পাবেন না যারা সদ্য. জামায়াত আমির-নাহিদ আদৌ নির্বাচনে পাস করেছিল কি না, প্রশ্ন রাশেদ খাঁনের সদ্য. মন্ত্রীদের বেতন বৃদ্ধির উদ্যোগ নিয়ে বিরোধীদলের সমালোচনা বিভ্রান্তিকর: রিজভী সদ্য. আদালতের নির্দেশ ছাড়া একাধিক মামলার সাজা একত্রে গণনার সুযোগ নেই: হাইকোর্ট সদ্য. জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রীর ঐতিহাসিক ভাষণ, অভিনন্দন জানালেন রাষ্ট্রপতি সদ্য. হামের উপসর্গ নিয়ে প্রাণ গেল আরও ৩ জনের সদ্য. ককটেল তৈরির সরঞ্জাম ও ৯ হাজার মুখোশসহ যুবলীগ নেতা গ্রেপ্তার সদ্য. বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারীদের দাঁতভাঙা জবাব দেওয়া হবে: প্রতিমন্ত্রী টুকু সদ্য. ইমরান সমর্থকদের মিছিল ঠেকাতে ইসলামাবাদ লকডাউন সদ্য. মেসির পর আর্জেন্টিনার নতুন অধিনায়ক রোমেরো সদ্য. সরকারি চাকরি করেও নতুন পে স্কেলের সুবিধা পাবেন না যারা সদ্য. জামায়াত আমির-নাহিদ আদৌ নির্বাচনে পাস করেছিল কি না, প্রশ্ন রাশেদ খাঁনের সদ্য. মন্ত্রীদের বেতন বৃদ্ধির উদ্যোগ নিয়ে বিরোধীদলের সমালোচনা বিভ্রান্তিকর: রিজভী