ইমরান খানকে নিয়ে সংকটে পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী

স
সদ্য সংবাদ ডেস্ক
২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২৩:১৯:৩৫
ছবি: সংগৃহীত

পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক ইমরান খানকে কেন্দ্র করে দেশটির রাজনীতিতে টানাপোড়েন আরও তীব্র হয়েছে। তিন বছরের বেশি সময় ধরে কারাগারে থাকা সত্ত্বেও তাঁর রাজনৈতিক প্রভাব ও সমর্থকদের সক্রিয়তা কমেনি। বরং তাঁকে রাজনৈতিক পরিসর থেকে দূরে রাখার নানা উদ্যোগের মধ্যেও তাঁর মুক্তির দাবিতে আন্দোলনের প্রস্তুতি অব্যাহত রয়েছে।

ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে আগামী রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) দেশজুড়ে বিক্ষোভ এবং ইসলামাবাদমুখী মার্চের কর্মসূচি দিয়েছে তাঁর দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই)। কর্মসূচি ঘিরে রাজধানীর প্রবেশপথ ও গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে কনটেইনার বসানোসহ কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে ইমরানের তিন বোনসহ পরিবারের কয়েকজন সদস্যকে আটক করা হয়েছে।

রাজধানীতে বিক্ষোভকারীদের প্রবেশ ঠেকাতে বিভিন্ন প্রধান সড়কও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। পাকিস্তানের কর্তৃপক্ষ ইসলামাবাদ-পেশোয়ার মোটরওয়ে, ইসলামাবাদ-ডেরা ইসমাইল খান মোটরওয়ে এবং গ্র্যান্ড ট্রাঙ্ক রোডের কয়েকটি অংশ বন্ধের উদ্যোগ নেয়। পিটিআইয়ের কর্মসূচিকে সামনে রেখে পাঞ্জাবের কয়েকটি জেলাতেও রেঞ্জার্স মোতায়েনের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

ইমরানকে ঘিরে সরকারের অবস্থানের প্রভাব পড়েছে দেশটির গণমাধ্যমেও। বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেলে তাঁর নাম সরাসরি উচ্চারণ না করে তাঁকে প্রায়ই পিটিআইয়ের ‘প্রতিষ্ঠাতা’ হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে।

অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক আদিল মালিকের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, পাকিস্তানের রাজনীতিতে ইমরানের জনপ্রিয়তা এবং সামরিক বাহিনীর ক্ষমতা ধরে রাখার আকাঙ্ক্ষার মধ্যে একটি অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। তাঁর সমর্থকদের কাছে ইমরান সামরিক প্রভাবাধীন রাজনীতির বিকল্প হিসেবে বিবেচিত হলেও সামরিক নেতৃত্ব তাঁর রাজনৈতিক প্রভাবকে রাষ্ট্রের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখে বলে তাঁর বিশ্লেষণে উঠে এসেছে।

২০১৮ সালে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সময় ইমরান খানের সঙ্গে পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর সম্পর্ক ছিল ঘনিষ্ঠ। পরে ক্ষমতার নিয়ন্ত্রণ ও রাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হয়। ২০২২ সালে অনাস্থা ভোটে প্রধানমন্ত্রীর পদ হারান ইমরান। পরের বছর আগস্ট থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন। দুর্নীতি, সন্ত্রাসবাদসহ বিভিন্ন অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা ও সাজা হয়েছে। এসব মামলাকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করে আসছে তাঁর দল। ইমরানের বেশ কয়েকটি সাজা পরবর্তী সময়ে স্থগিত কিংবা আপিলে বাতিল হয়েছে।

২০২৩ সালে ইমরানের গ্রেপ্তারের পর তাঁর সমর্থকদের একটি অংশ লাহোরের কর্পস কমান্ডার হাউসসহ কয়েকটি সামরিক স্থাপনায় হামলা চালায়। এর পর দেশজুড়ে ব্যাপক ধরপাকড় শুরু হয় এবং হাজার হাজার মানুষ আটক হন। পরের বছর নভেম্বরেও ইমরানপন্থীরা ইসলামাবাদমুখী মিছিল করলে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে প্রাণহানির দাবি করেছে পিটিআই ও প্রত্যক্ষদর্শীরা।

ইমরানের রাজনৈতিক ভবিষ্যতের পাশাপাশি পাকিস্তানের নির্বাচন ও বিচারব্যবস্থার নিরপেক্ষতা নিয়েও বিতর্ক রয়েছে। ২০২৪ সালে ইসলামাবাদ হাইকোর্টের ছয় বিচারক গোয়েন্দা সংস্থার পক্ষ থেকে বিচারিক সিদ্ধান্তে চাপ প্রয়োগের অভিযোগ করেন। একই বছর নির্বাচনে পিটিআইকে দলীয় প্রতীক ‘ক্রিকেট ব্যাট’ ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়নি। এরপরও ইমরানপন্থী প্রার্থীরা উল্লেখযোগ্য সংখ্যক আসনে জয় পান। বিরোধী দল ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের অভিযোগ, পরে সামরিক প্রভাবের মাধ্যমে শাহবাজ শরিফের নেতৃত্বে সরকার গঠিত হয়।

এদিকে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির আন্তর্জাতিক পরিসরে দেশটির অবস্থান জোরদারে সক্রিয় থাকলেও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক চাপ এবং রাজনৈতিক বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তাঁর নেতৃত্বাধীন ব্যবস্থার সামনে চ্যালেঞ্জ হয়ে রয়েছে।

দেশটির বিভিন্ন প্রান্তে ট্রাক, রিকশা ও দোকানে ইমরান খানের ছবি দেখা যায়। তাঁর কারাবন্দী নম্বর ‘৮০৪’-ও সমর্থকদের মধ্যে পরিচিত প্রতীক হয়ে উঠেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে তৈরি ইমরানের বক্তব্যের ভিডিওও ছড়িয়ে পড়ছে।

ফলে দীর্ঘ সময় ধরে কারাবন্দী রেখে ইমরান খানকে রাজনৈতিকভাবে নিষ্ক্রিয় রাখার যে কৌশল নেওয়া হয়েছে, তা কতটা কার্যকর হয়েছে সেটিই এখন পাকিস্তানের রাজনীতিতে বড় প্রশ্ন হিসেবে সামনে রয়েছে। আগামী ২৭ সেপ্টেম্বরের পিটিআই কর্মসূচিকে ঘিরে সরকার ও দলটির মধ্যে টানাপোড়েনও সেই প্রশ্নকে আরও সামনে এনেছে।

সদ্য সংবাদ/ এআর

মন্তব্য (0)

মন্তব্য করুন

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!

বিজ্ঞাপনের জন্য খালি স্পেস

শিরোনাম:
সদ্য. জাতিসংঘে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নেতাদের সঙ্গে সাইডলাইন বৈঠক করেছেন প্রধানমন্ত্রী সদ্য. ককটেল তৈরির সরঞ্জাম ও ৯ হাজার মুখোশসহ যুবলীগ নেতা গ্রেপ্তার সদ্য. হরমুজ খুলতে ৭ দিনের রোডম্যাপ ইরানের, কী আছে এতে সদ্য. আদালতের নির্দেশ ছাড়া একাধিক মামলার সাজা একত্রে গণনার সুযোগ নেই: হাইকোর্ট সদ্য. এলএনজি সরবরাহ বাড়ায় স্বাভাবিক হয়েছে গ্যাস সরবরাহ সদ্য. দেশের সব বিভাগেই হতে পারে বৃষ্টি সদ্য. শ্রীনগরে অগ্রণী ব্যাংকের গ্রাহকদের কোটি টাকা নিয়ে উধাও এক কর্মকর্তা! সদ্য. নেতানিয়াহুর ভাষণ বর্জন করা দেশগুলোর তালিকা করছে ইসরায়েল সদ্য. হুতিদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে জড়াচ্ছে পাকিস্তান-তুরস্ক? সদ্য. জাতিসংঘে ফিলিস্তিনের পূর্ণ সদস্যপদের আহ্বান জানাল বাংলাদেশ সদ্য. জাতিসংঘে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নেতাদের সঙ্গে সাইডলাইন বৈঠক করেছেন প্রধানমন্ত্রী সদ্য. ককটেল তৈরির সরঞ্জাম ও ৯ হাজার মুখোশসহ যুবলীগ নেতা গ্রেপ্তার সদ্য. হরমুজ খুলতে ৭ দিনের রোডম্যাপ ইরানের, কী আছে এতে সদ্য. আদালতের নির্দেশ ছাড়া একাধিক মামলার সাজা একত্রে গণনার সুযোগ নেই: হাইকোর্ট সদ্য. এলএনজি সরবরাহ বাড়ায় স্বাভাবিক হয়েছে গ্যাস সরবরাহ সদ্য. দেশের সব বিভাগেই হতে পারে বৃষ্টি সদ্য. শ্রীনগরে অগ্রণী ব্যাংকের গ্রাহকদের কোটি টাকা নিয়ে উধাও এক কর্মকর্তা! সদ্য. নেতানিয়াহুর ভাষণ বর্জন করা দেশগুলোর তালিকা করছে ইসরায়েল সদ্য. হুতিদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে জড়াচ্ছে পাকিস্তান-তুরস্ক? সদ্য. জাতিসংঘে ফিলিস্তিনের পূর্ণ সদস্যপদের আহ্বান জানাল বাংলাদেশ