ইউক্রেন যুদ্ধের অবসানে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য যেসব প্রস্তাব রয়েছে, সেগুলো এখনো আলোচনার টেবিলে আছে বলে জানিয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। তবে রাশিয়াকে নিজেদের জাতীয় স্বার্থ বিবেচনা করেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নিতে হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) রাশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর সেন্ট পিটার্সবার্গে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন পুতিন।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইউক্রেনের সঙ্গে আবারও আলোচনায় বসার বিষয়ে মস্কো প্রস্তুত ছিল বলে দাবি করেছেন রুশ প্রেসিডেন্ট। রাশিয়ার সাম্প্রতিক সংসদীয় নির্বাচনের পর কিয়েভের সঙ্গে আলোচনা পুনরায় শুরুর পরিকল্পনা ছিল বলে জানান তিনি।
তবে পুতিনের অভিযোগ, আলোচনার পরিবর্তে ইউক্রেন রাশিয়ার বিভিন্ন স্থানে হামলা চালিয়েছে। এর মধ্যে মস্কো এবং ভোটকেন্দ্রগুলোও হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
পুতিন বলেন, ইউক্রেনের পক্ষ থেকে উসকানিমূলক হামলা চালানো হয়েছে এবং এর জবাবে রাশিয়াকে ধারাবাহিক প্রতিক্রিয়া জানাতে হবে। তার ভাষায়, পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত করার মাধ্যমে কোনো ফল অর্জনের চেষ্টা করলে সেটি ইউক্রেনের জন্যই ক্ষতির কারণ হবে।
তবে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি রাশিয়ার ভূখণ্ডে হামলাকে রুশ হামলার পাল্টা জবাব হিসেবে বর্ণনা করেছেন। একই সঙ্গে যুদ্ধের অবসানে রাশিয়ার সঙ্গে সরাসরি আলোচনার আহ্বানও জানিয়ে আসছেন তিনি।
পুতিন বলেন, ইউক্রেনের পক্ষ থেকে নতুন করে আলোচনায় ফেরার আগ্রহের পেছনে রাশিয়ার পাল্টা হামলার পাশাপাশি রুশ বাহিনীর ব্যবহৃত জেটচালিত ড্রোন মোকাবিলায় কিয়েভের সামরিক বাহিনীর সমস্যাও ভূমিকা রেখেছে। এসব ড্রোন তুলনামূলক বেশি উচ্চতায় উড়তে পারে এবং এগুলো প্রতিহত করা কঠিন বলে মন্তব্য করেন তিনি।
রাশিয়া দীর্ঘদিন ধরে ইউক্রেনের বিভিন্ন শহরে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে আসছে। সাম্প্রতিক সময়ে কিয়েভসহ কয়েকটি এলাকায় দিনব্যাপী হামলার ঘটনাও ঘটেছে। শুক্রবার কিয়েভে বিমান হামলায় সাতজন নিহত হওয়ার কথা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
অন্যদিকে ইউক্রেনও কয়েক মাস ধরে রাশিয়ার বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে ধারাবাহিক হামলা চালিয়ে আসছে। এসব হামলায় রাশিয়ার তেলশিল্প ও খুচরা বিক্রয়কেন্দ্রসহ বিভিন্ন স্থাপনা লক্ষ্য করা হয়েছে। কিছু হামলা ইউক্রেন সীমান্ত থেকে প্রায় ৩ হাজার কিলোমিটার দূরেও হয়েছে বলে রয়টার্স জানিয়েছে।
পুতিন আরও দাবি করেন, গত জুনে সেন্ট পিটার্সবার্গে একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলন চলাকালে এবং গত সপ্তাহে রাশিয়ার সংসদীয় নির্বাচনের গুরুত্বপূর্ণ দিনে মস্কোয় ইউক্রেন ব্যাপক হামলা চালিয়েছিল। নির্বাচনের সময় ভোটকেন্দ্রেও হামলা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। এসব হামলায় একজন নির্বাচন কর্মকর্তা নিহত এবং কয়েকজন আহত হয়েছেন বলেও দাবি করেন রুশ প্রেসিডেন্ট।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের মধ্যে সাম্প্রতিক বৈঠকের প্রসঙ্গও তোলেন পুতিন। ওয়াশিংটন ও বেইজিংয়ের মধ্যে ইতিবাচক যেকোনো ধরনের সমঝোতাকে রাশিয়া স্বাগত জানাবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
চীনে অনুষ্ঠেয় আসন্ন এপেক (APEC) সম্মেলনে নিজের অংশগ্রহণের বিষয়টি রাশিয়ার অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করবে বলেও জানান ভ্লাদিমির পুতিন।
সূত্র: রয়টার্স
সদ্য সংবাদ/এসএস