ইরানের বিমান চলাচল খাতকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নিষেধাজ্ঞার প্রভাব ক্রমেই স্পষ্ট হচ্ছে। দেশটির বিমান সংস্থাগুলোর আন্তর্জাতিক রুট সংকুচিত হওয়ার পাশাপাশি একাধিক দেশের বিমানবন্দর ইরানি এয়ারলাইনসের ফ্লাইট গ্রহণ বন্ধ বা সীমিত করেছে।
মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট জানিয়েছেন, তুরস্ক ও ওমান ইতোমধ্যে ইরানের বেসরকারি বিমান সংস্থা মহান এয়ারের ফ্লাইট বন্ধ করেছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতও ইরানি এয়ারলাইনসের জন্য ফ্লাইট স্থগিত করেছে বলে তিনি দাবি করেছেন।
এর বাইরে আজারবাইজান ও জর্জিয়াতেও ইরানি বিমান সংস্থার কার্যক্রমে বিধিনিষেধ এসেছে। মহান এয়ার ইস্তাম্বুল ও আঙ্কারা রুটের ফ্লাইট ২১ সেপ্টেম্বর থেকে বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছিল। ওমানের মাসকাট রুটেও এর আগে পরিষেবা বন্ধ করা হয়।
এই পরিস্থিতির মূল কারণ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নিষেধাজ্ঞাকে সামনে আনা হচ্ছে। মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ ইরানি বিমান সংস্থাগুলোর সঙ্গে কাজ করা আন্তর্জাতিক এয়ারলাইন, বিমানবন্দর ও সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে কার্যক্রম বন্ধের সময়সীমা দিয়েছিল। নির্ধারিত সময়ের পর ইরানি বিমান সংস্থাকে সেবা দিলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো মার্কিন ডলারভিত্তিক আর্থিক ব্যবস্থায় প্রবেশাধিকার হারানোর ঝুঁকিতে পড়বে।
ইরানের জন্য সবচেয়ে বড় ধাক্কাগুলোর একটি এসেছে ইরাক থেকেও। বাগদাদ, নাজাফ, ইরবিল ও সুলাইমানিয়া ইরানি ফ্লাইট চলাচল করা চারটি প্রধান ইরাকি বিমানবন্দরই পরে ইরানের সঙ্গে বিমান যোগাযোগ স্থগিত করেছে।
প্রথম দিকে বাগদাদে ফ্লাইট বন্ধ হওয়ার পর ইরানি কর্তৃপক্ষ বিকল্প হিসেবে নাজাফ বিমানবন্দর ব্যবহারের কথা ভাবছিল। কিন্তু পরবর্তীতে নাজাফেও ইরানের সঙ্গে বিমান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এরপর ইরবিল ও সুলাইমানিয়াও একই পথে হাঁটে।
ইরাকি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় জানিয়েছে, চিকিৎসা, শিক্ষা, ধর্মীয় সফর ও সাধারণ যাত্রীদের প্রয়োজনের মতো মানবিক বিষয় বিবেচনায় নিয়ে ইরানি ফ্লাইট পুনরায় চালুর বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা চলছে।
তবে সব দেশ একই অবস্থান নেয়নি। চীন মার্কিন নিষেধাজ্ঞার বিরোধিতা করে এগুলোকে অবৈধ বলে আখ্যা দিয়েছে। ফলে ইরানি বিমান সংস্থাগুলোর কিছু আন্তর্জাতিক কার্যক্রম এখনো চীনের সঙ্গে চালু রয়েছে।
অন্যদিকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতার উপদেষ্টা মোহাম্মদ মোখবের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, ইরানি বিমান চলাচল ও বিমানবন্দর সেবা বন্ধ করে দিলে এর প্রভাব আঞ্চলিক বিমান যোগাযোগেও পড়তে পারে।
এদিকে ইরানি এয়ারলাইনসে যাত্রীদের ভ্রমণ পরিকল্পনা নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে তুরস্ক, ওমান, ইরাক ও সংযুক্ত আরব আমিরাত হয়ে যাতায়াতকারী যাত্রীদের ফ্লাইটের সর্বশেষ অবস্থা নিশ্চিত করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
সব মিলিয়ে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা কার্যকরের পর ইরানের আন্তর্জাতিক বিমান যোগাযোগে একের পর এক সীমাবদ্ধতা তৈরি হচ্ছে। এতে দেশটির বিমান পরিবহন খাতের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক যাত্রী ও পণ্য পরিবহন ব্যবস্থাতেও বাড়তি চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
সূত্র: গাল্ফ নিউজ
সদ্য সংবাদ/এসএস