শীত মৌসুমে বায়ুদূষণের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে এবার বেশ কিছু কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে ১০ ডিসেম্বর থেকে ২০ জানুয়ারি পর্যন্ত শহরজুড়ে নির্মাণ ও ধ্বংসের সব ধরনের কাজ পুরোপুরি বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দিল্লি সরকার। জরুরি সরকারি ও প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত কাজের ক্ষেত্রে অবশ্য নির্দিষ্ট ছাড় থাকবে।
সোমবার ঘোষিত শীতকালীন দূষণ নিয়ন্ত্রণ পরিকল্পনায় নির্মাণকাজের পাশাপাশি যানবাহন চলাচল, অফিসের সময়সূচি ও পার্কিং ব্যবস্থাতেও পরিবর্তন আনার কথা জানানো হয়েছে।
দিল্লির পরিবেশমন্ত্রী মানজিন্দর সিং সিরসা বলেন, শীতের আগেই দূষণ মোকাবিলায় প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে, যাতে বাতাসের মান বিপজ্জনক পর্যায়ে পৌঁছানোর আগেই প্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রণ কার্যকর করা যায়।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, ১ নভেম্বর থেকে ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত দিল্লির বাইরে নিবন্ধিত এবং নির্ধারিত নির্গমন মান পূরণ না করা কিছু যানবাহনের প্রবেশে বিধিনিষেধ থাকবে। একই সময়ে সরকারি-বেসরকারি অফিসে শারীরিক উপস্থিতি সীমিত রাখার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। বাকি কর্মীদের একটি অংশকে বাড়ি থেকে কাজের সুযোগ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
ব্যক্তিগত গাড়ির ব্যবহার কমাতে ১ নভেম্বর থেকে ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত অনুমোদিত পার্কিং এলাকায় ফি দ্বিগুণ করার সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি গণপরিবহন ব্যবহারে উৎসাহ দেওয়ার উদ্যোগ রয়েছে।
শীতকালে দিল্লির দূষণ পরিস্থিতি সাধারণত আরও খারাপ হয়। কম তাপমাত্রা ও বাতাসের গতির পরিবর্তনের কারণে দূষিত কণা ভূপৃষ্ঠের কাছাকাছি আটকে থাকার প্রবণতা বাড়ে। এর সঙ্গে যানবাহনের ধোঁয়া, নির্মাণকাজের ধুলা ও অন্যান্য দূষণের উৎস যুক্ত হয়ে পরিস্থিতি জটিল করে তোলে।
নতুন পরিকল্পনায় শুধু শীতকালীন পরিস্থিতি সামাল দেওয়া নয়, সারা বছর ধরেই দূষণ নিয়ন্ত্রণে নজরদারি ও প্রয়োগ জোরদারের কথাও বলা হয়েছে। ১ অক্টোবর থেকে বৈধ দূষণ নিয়ন্ত্রণ সনদ বা পিইউসিসি (PUCC) ছাড়া যানবাহনের বিরুদ্ধে অভিযান চালানোর ঘোষণা আগেই দিয়েছে দিল্লি সরকার।
দিল্লি সরকারের দাবি, বিভিন্ন উৎস থেকে আসা দূষণ একসঙ্গে মোকাবিলা করতেই এবার আগাম বিধিনিষেধ কার্যকর করা হচ্ছে।
সদ্য সংবাদ/এসএস