ভারতের পশ্চিমবঙ্গের শিলিগুড়ি মহকুমা আদালতে হিজাব পরিহিত এক নারী বিচারককে দেখে এক আসামি ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগান দিয়েছেন এমন অভিযোগকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। আদালতকক্ষে ধর্মীয় বা রাজনৈতিক স্লোগান দেওয়ার অভিযোগে আইনজীবীদের একাংশ ঘটনাটির সমালোচনা করেছেন।
বুধবার শিলিগুড়ি মহকুমা আদালতের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের ৪ নম্বর এজলাসে ঘটনাটি ঘটে বলে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। ওই দিন একটি পুরোনো মামলায় হাজিরা দিতে আসা অভিযুক্তদের নাম ধরে উপস্থিতি নেওয়া হচ্ছিল। সে সময় এক ব্যক্তি ওই স্লোগান দেন বলে অভিযোগ ওঠে।
ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর আদালতকক্ষের পরিবেশ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। শিলিগুড়ি বার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি উদয়শঙ্কর মালাকার বলেন, আদালতের ভেতরে এ ধরনের আচরণ অনভিপ্রেত। তাঁর মতে, আদালতকক্ষের শৃঙ্খলা বজায় রাখা জরুরি।
অন্যদিকে, অল ইন্ডিয়া লইয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের দার্জিলিং জেলা সম্পাদক দিবাকর রায়ও ঘটনাটির সমালোচনা করেন। তাঁর বক্তব্য, আদালত ধর্ম ও রাজনীতির ঊর্ধ্বে থেকে বিচারপ্রক্রিয়া পরিচালনার স্থান; সেখানে কোনো ধরনের ধর্মীয় বা রাজনৈতিক স্লোগান দেওয়া উচিত নয়।
ঘটনায় আদালতের প্রোটোকল লঙ্ঘনের অভিযোগও তুলেছেন পশ্চিমবঙ্গ বার কাউন্সিলের সদস্য অলকেশ চক্রবর্তী। বিচারক বা বিচারপ্রার্থীর পোশাক নিয়ে আদালতকক্ষে মন্তব্য করার সুযোগ নেই বলে তিনি মন্তব্য করেন।
তবে অভিযুক্তের আইনজীবী ত্রিদিব সাহা বিষয়টিকে অনিচ্ছাকৃত ঘটনা হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন। তাঁর দাবি, স্লোগানটি বিচারককে উদ্দেশ করে দেওয়া হয়নি। নাম ধরে উপস্থিতি নেওয়ার সময় অভিযুক্তদের একজন অভ্যাসবশত ওই শব্দ উচ্চারণ করে ফেলেছিলেন। ঘটনার পর আদালতকক্ষেই তিনি ক্ষমা চান বলেও জানান আইনজীবী।
জানা গেছে, ঘটনাটির সূত্রপাত ২০১৮ সালের একটি মামলাকে ঘিরে। আন্তধর্মীয় বিয়েকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া পরিস্থিতির পর ওই মামলায় ২৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছিল। কয়েকজন আগে জামিন পেলেও অন্যদের বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি হওয়ায় তাদের আদালতে হাজির হতে বলা হয়েছিল।
আদালতে হাজিরার সময়ই ওই স্লোগান দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি নিয়ে আইনজীবী মহলে প্রতিক্রিয়া তৈরি হলেও, ঘটনার বিষয়ে অভিযুক্তের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে এটি বিচারককে লক্ষ্য করে করা হয়নি।
সদ্য সংবাদ/এসএস