বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম বাড়তে থাকায় ইউরোপের কৌশলগত মজুত থেকে ডিজেল বাজারে ছাড়ার বিষয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের চাপের মধ্যে শুক্রবার এ নিয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সদস্য দেশগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে ফ্রান্স।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফ্রান্সের প্রস্তাব অনুযায়ী ইউরোপের দেশগুলো তাদের মজুত থেকে প্রায় ৫ কোটি ব্যারেল ডিজেল ছাড়তে পারে। একই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার (আইইএ) সদস্য দেশগুলো আরও ৫ কোটি ব্যারেল অপরিশোধিত তেল বাজারে ছাড়ার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।
জ্বালানির সরবরাহ বাড়িয়ে ঊর্ধ্বমুখী দাম নিয়ন্ত্রণে আনাই এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে। তবে মজুত ছাড়ার বিষয়ে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি।
রয়টার্স জানায়, যুক্তরাষ্ট্র ইউরোপের বড় দেশগুলোকে জরুরি ডিজেল মজুত কমানোর জন্য চাপ দিচ্ছে। জার্মানি ও ফ্রান্সকে মজুত ছাড়ার আহ্বান জানানো হয়েছে এবং ইউরোপ এ বিষয়ে পদক্ষেপ না নিলে যুক্তরাষ্ট্র ডিজেল রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন।
শুক্রবারের আলোচনায় ইউরোপীয় দেশগুলোর পক্ষ থেকে একটি শর্তের কথাও উঠে এসেছে। মজুত ডিজেল বাজারে ছাড়ার কোনো সমঝোতা হলে যুক্তরাষ্ট্র যেন একতরফাভাবে ডিজেল রপ্তানি বন্ধ না করে- এমন প্রতিশ্রুতি চায় ইউরোপের কয়েকটি দেশ।
বর্তমানে বিশ্ববাজারে ডিজেলের সরবরাহে চাপ তৈরি হয়েছে। ইরান যুদ্ধের প্রভাবে জ্বালানি সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার পাশাপাশি ইউক্রেনের হামলায় রাশিয়ার কয়েকটি তেল শোধনাগার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একই সময়ে চীন অভ্যন্তরীণ বাজারের সরবরাহ বাড়াতে জ্বালানি রপ্তানি কমিয়েছে।
এ পরিস্থিতিতে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সমন্বিত পদক্ষেপের বিষয়ে আলোচনা চলছে। ফ্রান্স বর্তমানে জি৭-এর সভাপতির দায়িত্বে রয়েছে এবং শুক্রবার জি৭ নেতাদের মধ্যে জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনার কথা রয়েছে।
এর আগে আইইএ জরুরি মজুত থেকে সমন্বিতভাবে তেল বাজারে ছাড়ার বিষয়ে উদ্যোগ নিয়েছিল। নতুন করে ইউরোপের ডিজেল মজুত ছাড়ার আলোচনা সেই বৃহত্তর আন্তর্জাতিক উদ্যোগের সঙ্গেও সমন্বয় করা হতে পারে।
সদ্য সংবাদ/এসকে