নেপাল-তিব্বত সীমান্তে ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসের পর ৩৭ দিন নিখোঁজ থাকা এক মালয়েশীয় নাগরিককে জীবিত অবস্থায় খুঁজে পাওয়া গেছে। পরে নিরাপদে মালয়েশিয়ায় ফিরে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করেছেন তিনি। দীর্ঘদিন পর তার জীবিত ফেরার খবরে স্বস্তি ফিরেছে অন্য নিখোঁজদের পরিবারগুলোর মধ্যেও।
শনিবার (৩ অক্টোবর) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিপেনডেন্টের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এর আগে শুক্রবার মালয়েশীয় নিখোঁজ নাগরিকদের স্বজনদের সংগঠন ‘মালয়েশিয়া সলিডারিটি: ফ্যামিলিজ ইন হোপ’ বিষয়টি নিশ্চিত করে।
সংগঠনটির মুখপাত্র মনিভান্নান রেথিনাম জানান, উদ্ধার হওয়া ব্যক্তি চীনা-মালয়েশীয় নাগরিক। তিনি একাই নেপালে ভ্রমণে গিয়েছিলেন। ভয়াবহ দুর্যোগের পর পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলে নিজ উদ্যোগে কাঠমান্ডুতে অবস্থিত মালয়েশীয় দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করেন তিনি।
স্বজনদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ২৫ আগস্ট স্থানীয় সময় বিকেল ৩টা ২৬ মিনিটে নাগথালি ভিউপয়েন্ট এলাকায় ওই ব্যক্তিকে সর্বশেষ দেখা যায়। এর পরদিন ২৬ আগস্ট ওই অঞ্চলে ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধস আঘাত হানে।
প্রাকৃতিক দুর্যোগে ওই এলাকার সড়ক ও সেতুর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে বিদ্যুৎ, পানি ও যোগাযোগব্যবস্থা। ফলে তিনি সেখানে আটকা পড়েছিলেন এবং দীর্ঘ সময় বাইরের কারও সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেননি বলে ধারণা করা হচ্ছে।
পরে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলে তিনি নিজেই মালয়েশীয় দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। এরপর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা শেষে নিরাপদে দেশে ফিরে পরিবারের সঙ্গে মিলিত হন।
৩৭ দিন পর একজন নিখোঁজ মালয়েশীয় নাগরিকের জীবিত ফিরে আসার ঘটনায় স্বস্তি প্রকাশ করেছে ‘মালয়েশিয়া সলিডারিটি: ফ্যামিলিজ ইন হোপ’। সংগঠনটির মুখপাত্রের মতে, এই খবর অন্য নিখোঁজদের স্বজনদের মধ্যেও নতুন আশার সঞ্চার করেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, হিমালয়ের লাংটাং লিরুং এলাকার কাছে হিমবাহ ধস ও তুষারধসের পর পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। এর সঙ্গে বন্যা ও ভূমিধস যোগ হয়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। নেপাল ছাড়াও তিব্বত ও চীনের বিভিন্ন এলাকায় বহু মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন।
এদিকে এখনো নিখোঁজ মালয়েশীয় নাগরিকদের উদ্ধারে আরও কার্যকর উদ্যোগের দাবি জানিয়েছেন তাদের স্বজনেরা। এ বিষয়ে নেপালের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাতের আগ্রহ প্রকাশ করেছেন তারা।
শুধু উদ্ধার তৎপরতার আশ্বাস নয়, নিখোঁজদের সন্ধানে এখন পর্যন্ত কী অগ্রগতি হয়েছে, পরবর্তী পদক্ষেপ কী এবং তাদের উদ্ধারে সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে কী ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে- এসব বিষয়ে স্পষ্ট তথ্য চান স্বজনেরা।
সদ্য সংবাদ/এসকে