যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে নতুন করে উত্তেজনা বাড়ার আশঙ্কার মধ্যে ইরানে বেসামরিক নাগরিকদের সামরিক প্রশিক্ষণ দেওয়া শুরু হয়েছে। তেহরানের একটি প্রশিক্ষণকেন্দ্রে নারীদেরও আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারের অনুশীলন করতে দেখা গেছে বলে জানিয়েছে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
রোববার তেহরানের ইমাম হোসেইন স্কয়ারের একটি সামরিক প্রশিক্ষণকেন্দ্রে এ কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে সামরিক কর্মকর্তা ও প্রশিক্ষকদের কাছ থেকে বিভিন্ন নির্দেশনা নেওয়ার পর অংশগ্রহণকারীদের আগ্নেয়াস্ত্র চালানোর প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। অনুশীলনের অংশ হিসেবে কয়েকজন নারীকে হ্যান্ডগান ব্যবহার করতেও দেখা যায়।
ইরানে সম্ভাব্য স্থল হামলা মোকাবিলার প্রস্তুতির অংশ হিসেবে বেসামরিক নাগরিকদের এ প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় শনিবার তেহরানের হাফত-ই তির স্কয়ারে বেসামরিকদের জন্য নতুন একটি প্রশিক্ষণকেন্দ্র চালু করা হয়। এর আগে ইমাম হোসেইন স্কয়ারেও একই ধরনের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু হয়েছিল।
প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়া ৪৫ বছর বয়সী রাহেলেহ ঘাদিরি বলেন, যুদ্ধের পরিস্থিতিতে নিজের পরিবার ও আশপাশের মানুষকে কীভাবে নিরাপদ রাখা যায়, সে বিষয়ে প্রস্তুতি থাকলে তার ভয় কিছুটা কমবে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের দীর্ঘদিনের উত্তেজনার মধ্যেই এসব প্রশিক্ষণ কার্যক্রম জোরদার করা হচ্ছে। সম্ভাব্য সামরিক পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষকে প্রস্তুত রাখাই এর অন্যতম উদ্দেশ্য।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার মধ্য দিয়ে ইরানকে ঘিরে নতুন করে সংঘাত শুরু হয়। পরে ৮ এপ্রিলের একটি যুদ্ধবিরতির মাধ্যমে প্রায় ৪০ দিনের যুদ্ধের অবসান ঘটে। তবে এরপরও বিভিন্ন পর্যায়ে বিচ্ছিন্ন সংঘর্ষ অব্যাহত ছিল।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু করলে ইরান আগের তুলনায় আরও ব্যাপক ও শক্তিশালী পাল্টা জবাব দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর বরাতে জানিয়েছে রয়টার্স।
এমন পরিস্থিতিতে বেসামরিক নাগরিকদের সামরিক প্রশিক্ষণের আওতায় আনা তেহরানের সম্ভাব্য সংঘাতের প্রস্তুতিরই একটি অংশ বলে মনে করা হচ্ছে।
সদ্য সংবাদ/এসকে