উত্তর ফ্রান্স থেকে ছোট নৌকায় করে যুক্তরাজ্যে যাওয়ার চেষ্টা করা প্রায় সব নারীই যাত্রাপথে ধর্ষণের শিকার হয়েছেন বলে দাবি করেছেন দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ।
রোববার (৪ সেপ্টেম্বর) ‘দ্য রেস্ট ইজ পলিটিকস’ পডকাস্টে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, যুক্তরাজ্যে কারা প্রবেশ করবে এ নিয়ন্ত্রণ যতদিন মানবপাচারকারীদের হাতে থাকবে, ততদিন আশ্রয়প্রার্থীদের বড় একটি অংশ যৌন নিপীড়নের ঝুঁকিতে থাকবেন।
সাবেক টোরি মন্ত্রী ররি স্টুয়ার্ট এবং সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ারের ঘনিষ্ঠ উপদেষ্টা অ্যালিস্টেয়ার ক্যাম্পবেলের সঙ্গে আলোচনায় মাহমুদ বলেন, যুক্তরাজ্যের এই সীমান্ত বর্তমানে সরকারের নিয়ন্ত্রণে নেই। উত্তর ফ্রান্সে জড়ো হওয়া এবং নৌকায় ওঠার অপেক্ষায় থাকা অভিবাসীদের অপরাধী চক্রই বাছাই করে থাকে। এসব চক্র মানবপাচারের সঙ্গেও যুক্ত।
তার ভাষায়, উত্তর ফ্রান্সে অবস্থানরত প্রায় প্রত্যেক নারীই নৌকায় যাত্রার সময় সম্ভবত ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। পাশাপাশি কিছু পুরুষও যৌন নিপীড়নের শিকার হয়েছেন এবং তাদের ভয়ভীতি দেখানো হয়েছে।
শাবানা মাহমুদ বলেন, যুক্তরাজ্যে প্রবেশ, দেশটিকে আশ্রয়ের জন্য বেছে নেওয়া এবং পরবর্তী সময়ে সমাজের অংশ হয়ে ওঠার মতো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত এমন কোনো ব্যবস্থার মাধ্যমে হওয়া উচিত নয়, যেখানে অপরাধী চক্রের নিয়ন্ত্রণ থাকে।
সাক্ষাৎকারে মুখোশ বা চাদর পরা উগ্র ডানপন্থি বিক্ষোভকারীদের বিষয়েও কথা বলেন তিনি। মাহমুদের আশঙ্কা, তারা ক্ষমতায় এলে তাকে হত্যা করতে পারে অথবা যুক্তরাজ্য থেকে বের করে দিতে পারে। তার দাবি, এসব বিক্ষোভকারী তাকে প্রকৃত ব্রিটিশ নাগরিক হিসেবে স্বীকার করে না এবং মুসলিম হওয়ার কারণে তাকে ঘৃণা করে।
নিজের রাজনৈতিক অবস্থান তুলে ধরে মাহমুদ বলেন, তিনি নিজেকে ফিলিস্তিনপন্থি আন্দোলনের একজন অংশীদার হিসেবে মনে করেন। ফিলিস্তিন অ্যাকশন নিষিদ্ধ করার প্রতিবাদে আন্দোলনকারীদের গ্রেপ্তার নিয়েও তিনি ‘খুব অস্বস্তি’ অনুভব করেন বলে জানান।
তবে নিষিদ্ধ সংগঠনটির সমর্থনে কোনো সামগ্রী পরা বা বহনের অভিযোগে সোমবার লিভারপুলে লেবার পার্টির সম্মেলন থেকে ৮২ জনকে গ্রেপ্তার করে মার্সিসাইড পুলিশ। নিজের অবস্থানের সঙ্গে অস্বস্তিকর হলেও নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নের পক্ষে থাকার কথা জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
এরই মধ্যে রোববার অভিবাসীদের বহনকারী একটি ছোট নৌকা ইংলিশ চ্যানেল পেরিয়ে ইংল্যান্ডের দক্ষিণ উপকূলের দিকে এগিয়ে যায়। ফরাসি কোস্টগার্ড ও উদ্ধারকারী জাহাজ নৌকাটিকে অনুসরণ করছিল। ধারণা করা হচ্ছে, নৌকাটি নরম্যান্ডির ইউটাহ বিচের কাছাকাছি এলাকা থেকে যাত্রা শুরু করেছিল।
নারীদের যৌন সহিংসতার শিকার হওয়ার বিষয়টি তুলে ধরায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে স্বাগত জানিয়েছেন রিফিউজি কাউন্সিলের পরিচালক ইমরান হুসাইন। তবে নিরাপদ ও বৈধভাবে আশ্রয় পাওয়ার সুযোগ সীমিত করার সরকারি নীতির সমালোচনা করেছেন তিনি।
ইমরান হুসাইনের মতে, যুদ্ধ ও নির্যাতন থেকে পালিয়ে আসা নারী ও শিশুরা নিজ দেশ এবং পালানোর পথ—উভয় জায়গাতেই যৌন সহিংসতার ঝুঁকিতে থাকেন। তাই তাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে নিরাপদ আশ্রয়ের পথ সংকুচিত না করে বরং আরও বিস্তৃত করা প্রয়োজন।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান
সদ্য সংবাদ/ এআর