শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পাওয়ার যোগ্য বলে মনে করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নেওয়ার পর বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন সংঘাত নিরসনে নিজের ভূমিকার স্বীকৃতি হিসেবে এ পুরস্কার পাওয়া উচিত বলে দাবি করেছেন তিনি। তবে নরওয়ের নোবেল কমিটি শেষ পর্যন্ত তাকে পুরস্কার দেবে কি না, তা নিয়ে সংশয়ও প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
বুধবার (৭ অক্টোবর) হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ বিষয়ে প্রশ্নের মুখোমুখি হন ট্রাম্প। জানতে চাওয়া হয়, চলতি বছর শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পাওয়ার আশা করছেন কি না।
জবাবে ট্রাম্প বলেন, তিনি মনে করেন তার নোবেল পুরস্কার পাওয়া উচিত। তবে নরওয়েজীয় নোবেল কমিটি কী সিদ্ধান্ত নেবে, তা তিনি জানেন না। নিজের মতো ব্যক্তিদের পুরস্কার না দেওয়ার ক্ষেত্রে কমিটির সুনাম রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
২০২৬ সালের নোবেল পুরস্কারের বিভিন্ন বিভাগের বিজয়ীদের নাম ৫ অক্টোবর থেকে ঘোষণা করা হচ্ছে। চিকিৎসা, পদার্থবিজ্ঞান ও রসায়নে পুরস্কারপ্রাপ্তদের নাম ইতোমধ্যে প্রকাশ করা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার শান্তিতে নোবেলজয়ীর নাম ঘোষণা করার কথা রয়েছে।
দ্বিতীয় মেয়াদে হোয়াইট হাউসে ফেরার পর থেকেই নোবেল শান্তি পুরস্কারের বিষয়ে নিজের আগ্রহের কথা বিভিন্ন সময়ে জানিয়েছেন ট্রাম্প। তার দাবি, ২০২৫ সালের ২০ জানুয়ারি দ্বিতীয়বার প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি একাধিক আন্তর্জাতিক সংঘাত নিরসনে ভূমিকা রেখেছেন।
ট্রাম্পের ভাষ্য অনুযায়ী, অন্তত আটটি সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতি মোকাবিলায় তার প্রশাসনের ভূমিকা ছিল। কম্বোডিয়া, ইসরায়েল ও পাকিস্তানের নেতারা তাকে নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য মনোনীত করেছেন বলেও দাবি করা হয়েছে। তবে এসব মনোনয়নের তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করার সুযোগ নেই।
নোবেল পুরস্কার নিয়ে কথা বলার সময় ২০২৫ সালের শান্তিতে নোবেলজয়ী ভেনেজুয়েলার রাজনীতিবিদ মারিয়া কোরিনা মাচাদোর প্রসঙ্গও টানেন ট্রাম্প। মাচাদো গত জানুয়ারিতে নিজের নোবেল পদক ট্রাম্পকে উপহার দিয়েছিলেন। সেই ঘটনা স্মরণ করে ট্রাম্প বলেন, মাচাদোর এমন বক্তব্য তাকে সম্মানিত করেছিল।
তবে ট্রাম্পের আন্তর্জাতিক সংঘাত নিরসনের দাবিকে ঘিরে বিতর্কও রয়েছে। যেসব সংঘাত সমাধানের কৃতিত্ব তিনি দাবি করছেন, সেসবের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কয়েকটি পক্ষ তার কূটনৈতিক ভূমিকার ব্যাপারে ভিন্নমত পোষণ করেছে। কঙ্গো এবং কম্বোডিয়া-থাইল্যান্ড সীমান্তেও নতুন করে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে।
এ ছাড়া ইউক্রেনে রাশিয়ার চলমান যুদ্ধ বন্ধে এখনো কোনো চূড়ান্ত সমাধান আসেনি। অথচ দ্বিতীয় মেয়াদের শুরুতেই যুদ্ধ শেষ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন ট্রাম্প। অন্যদিকে ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক তৎপরতাও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি করেছে।
এদিকে চলতি বছরের শান্তিতে নোবেল পুরস্কারের সম্ভাব্য প্রার্থীদের আলোচনায় ক্যাথলিক খ্রিস্টানদের ধর্মীয় নেতা পোপ লিওর নামও রয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে শেষ পর্যন্ত কার হাতে উঠছে ২০২৬ সালের শান্তিতে নোবেল, সে সিদ্ধান্ত জানাবে নরওয়ের নোবেল কমিটি।
সদ্য সংবাদ/এসকে