সৌদি আরবের নিরাপত্তা জোরদারে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর সদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছে। ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের সাম্প্রতিক ধারাবাহিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার মধ্যে সৌদি আরবে পাকিস্তানি সেনা পাঠানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে দেশটির আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর)।
পাকিস্তানের আইএসপিআরের মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরিফ চৌধুরী জানান, মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় সৌদি আরবে পাকিস্তানি সেনাদের মোতায়েন করা হয়েছে। দায়িত্ব বুঝে নেওয়ার প্রক্রিয়াও ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে বলে জানান তিনি।
সম্প্রতি মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ তথ্য প্রকাশ করেন পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর এই কর্মকর্তা। পরদিন এক বিবৃতির মাধ্যমে বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করে আইএসপিআর।
সৌদি আরবের বিরুদ্ধে ইয়েমেনের হুথিদের হামলা সাম্প্রতিক সময়ে আবারও বেড়েছে। চলতি সপ্তাহেই সৌদি ভূখণ্ড লক্ষ্য করে তিন দফা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানোর কথা জানা গেছে। ইয়েমেনের বর্তমান রাজনৈতিক কাঠামোর পাশাপাশি সৌদি আরবকেও দীর্ঘদিন ধরে নিজেদের প্রধান প্রতিপক্ষ হিসেবে দেখে আসছে হুথিরা।
ইয়েমেনে হুথিদের উত্থান ঘটে ২০১৪ সালে। ওই সময় তারা রাজধানী সানাসহ দেশটির উত্তরাঞ্চলের বড় একটি অংশের নিয়ন্ত্রণ নেয়। পরিস্থিতির মধ্যে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট আবদ-রাব্বু মনসুর হাদি সৌদি আরবে আশ্রয় নেন। পরের বছর হুথিদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট।
দীর্ঘ সংঘাতের পর ২০২২ সালে যুদ্ধবিরতির মাধ্যমে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হয়। তবে সেই স্থিতাবস্থা স্থায়ী হয়নি। সম্প্রতি ইয়েমেনের অভ্যন্তরীণ সংঘাত আবারও তীব্র হওয়ায় হুথিদের সঙ্গে সরকারি বাহিনীর লড়াই নতুন করে শুরু হয়েছে।
সৌদি আরবে পাকিস্তানি সেনাদের উপস্থিতি অবশ্য নতুন কোনো ঘটনা নয়। দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের সামরিক ও কৌশলগত সম্পর্ক রয়েছে। বিভিন্ন সময়ে প্রশিক্ষণ, সামরিক পরামর্শ এবং প্রতিরক্ষা সহযোগিতার অংশ হিসেবে সৌদি আরবে পাকিস্তানের সামরিক সদস্যরা দায়িত্ব পালন করেছেন।
তবে এবার ঠিক কতজন পাকিস্তানি সেনা সৌদি আরবে পাঠানো হয়েছে এবং তাদের নির্দিষ্ট দায়িত্ব কী হবে—সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি পাকিস্তানের আইএসপিআর।
লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরিফ চৌধুরীর ভাষ্য অনুযায়ী, মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তির উদ্যোগটি আকস্মিক কোনো সামরিক জোট নয়। পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্কের মধ্যে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক, কূটনৈতিক ও প্রতিরক্ষা সম্পর্কের ভিত্তিতেই এ সহযোগিতার কাঠামো তৈরি হয়েছে বলে জানান তিনি।
হুথিদের হামলার মাত্রা বৃদ্ধি এবং মধ্যপ্রাচ্যের চলমান অস্থিরতার মধ্যেই সৌদি আরবে পাকিস্তানি সেনা মোতায়েনের বিষয়টি নতুন করে আঞ্চলিক নিরাপত্তা আলোচনায় গুরুত্ব পেয়েছে।
সূত্র : সিএএন, ফার্স্টপোস্ট
সদ্য সংবাদ/এসএস