ভারতের রাজস্থানের আজমের সেন্ট্রাল জেলের সাবেক কর্মকর্তা দিব্যা চৌধুরীকে গ্রেপ্তারের পর সেই কারাগারেই পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত দুই নারী বন্দীকে নিয়মবহির্ভূতভাবে নিজের বাড়িতে গৃহকর্মী হিসেবে নিয়োজিত করার অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।
শুক্রবার (৯ অক্টোবর) টাইমস অব ইন্ডিয়ার এক প্রতিবেদনে বলা হয়, দুই মাসের বেশি সময় আত্মগোপনে থাকার পর বুধবার দিব্যাকে কারাগারে পাঠানো হয়।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, গত মঙ্গলবার রাতে রাজস্থানের কোটা শহরের একটি আবাসিক ভবন থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। আজমের পুলিশের সাইবার সেলের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাঁর অবস্থান শনাক্ত করা সম্ভব হয়।
গত ৫ আগস্ট এক কারারক্ষীর অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে দিব্যার বিরুদ্ধে এফআইআর করা হয়েছিল। মামলাটি করার জন্য রাজ্য সরকারের প্রয়োজনীয় অনুমোদন পাওয়ার পর থেকেই তিনি পলাতক ছিলেন।
এ মামলায় অভিযুক্ত আরেক কারারক্ষী সোনিয়া চৌধুরী এখনো গ্রেপ্তার হননি। অভিযোগ রয়েছে, যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত দুই নারী বন্দীকে কারাগার থেকে বের করে দিব্যার বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার কাজে তিনি সহযোগিতা করেছিলেন। ঘটনার পর দিব্যা ও সোনিয়া দুজনকেই সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। পাশাপাশি তাঁদের বিকানের সেন্ট্রাল জেলে যোগ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। তবে সেখানে যোগ না দিয়ে দুজনই আত্মগোপনে চলে যান।
আজমেরের পুলিশ সুপার হর্ষবর্ধন আগরওয়ালা জানান, গত ১২ জুলাই এ ঘটনার সূত্রপাত। অভিযোগ অনুযায়ী, ওই দিন কিরণ ও সান্না নামের যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত দুই নারী বন্দীকে নির্ধারিত নিয়ম অনুসরণ না করেই কারাগারের বাইরে নিয়ে যান দিব্যা।
পুলিশের অভিযোগ, দায়িত্বে থাকা কারারক্ষীদের আপত্তি সত্ত্বেও নিজের ব্যক্তিগত গাড়িতে করে ওই দুই বন্দীকে বাড়িতে নিয়ে যান দিব্যা। সেখানে তাঁদের দিয়ে ঘর পরিষ্কারসহ বিভিন্ন ধরনের গৃহস্থালির কাজ করানো হয়। বন্দীদের কারাগারের বাইরে নেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় নথিপত্র না থাকায় কর্তব্যরত কারারক্ষীরা বাধা দিয়েছিলেন। এ সময় আপত্তি জানানো কারারক্ষীদের হুমকি দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে।
পরবর্তী সময়ে দিব্যার বাড়ি থেকে ওই দুই নারী বন্দীকে আবার আটক করে কারাগারে ফিরিয়ে নেওয়া হয়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভারতের কারাগারগুলোর নিরাপত্তাব্যবস্থা, বন্দীদের তদারকি এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের ক্ষমতার অপব্যবহার নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
সদ্য সংবাদ/ এআর