ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘিরে উত্তেজনা ছড়িয়েছে রাজধানী নয়াদিল্লিতে। পুলিশের অনুমতি না থাকলেও শনিবার যন্তর মন্তরে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে শহরজুড়ে ২৩ হাজার পুলিশ সদস্য মোতায়েন করেছে কর্তৃপক্ষ।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুক্রবার সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে জানান, পুলিশের নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও তাঁদের বিক্ষোভ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হবে। তাঁর দাবি, ভারতের সংবিধানের ১৯ অনুচ্ছেদে নাগরিকদের প্রতিবাদ করার অধিকার দেওয়া হয়েছে।
এদিকে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কায় কর্মসূচির অনুমতি দেয়নি পুলিশ। বিক্ষোভ ঘিরে রাজধানীর ৫৭টি মেট্রো স্টেশন বন্ধ রাখা হয়েছে। পাশাপাশি শুক্রবার ও শনিবার নয়াদিল্লি রেলওয়ে স্টেশনগামী ৬১টি ট্রেনের যাত্রা বাতিল করা হয়েছে। এ ছাড়া রাজধানীতে ২৪ ঘণ্টার জন্য ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে পুলিশ।
ভোটার তালিকা থেকে প্রায় ১৩ কোটি নাম বাদ দেওয়ার অভিযোগ তুলে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ দাবি করছে সিজেপি। বিতর্কিত ভোটার তালিকা সংশোধনের বিষয়টি নিয়ে আগে থেকেই সরব রয়েছে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোটও।
অনুমতি ছাড়া বিক্ষোভ করলে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলে সতর্ক করেছে পুলিশ। তবে কর্মসূচি থেকে সরে আসতে নারাজ সিজেপি।
অভিজিৎ দীপকের অভিযোগ, যন্তর মন্তর নির্ধারিত প্রতিবাদস্থল হওয়া সত্ত্বেও সেখানে বিক্ষোভের জন্য অনুমতি চাওয়ার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। তাঁর দাবি, ১৩ কোটি ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার সময় প্রধান নির্বাচন কমিশনার জনগণের অনুমতি নেননি; তাই তাঁদের প্রতিবাদেও বাধা দেওয়া উচিত নয়।
সদ্য সংবাদ/এসকে