সিরিয়ার দীর্ঘ সংঘাতের ক্ষত পেরিয়ে আবারও ধর্মীয় কার্যক্রম শুরু হয়েছে দেশটির প্রাচীন স্থাপত্য নিদর্শন গ্রেট উমাইয়া মসজিদে। আলেপ্পো শহরের ঐতিহাসিক এই মসজিদটি দীর্ঘ ১৩ বছর বন্ধ থাকার পর গত বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) মুসল্লিদের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে।
সিরিয়ার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন আল ইখবারিয়ার বরাতে জানা গেছে, মসজিদটি পুনরায় চালুর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন আলেপ্পোর গভর্নর আজ্জাম আল-গারিব। দীর্ঘদিনের ধ্বংসযজ্ঞের পর ঐতিহাসিক স্থাপনাটিকে পুনরায় সচল করতে পারাকে গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।
গভর্নর বলেন, মসজিদটির পুনরায় চালু হওয়া আলেপ্পোর ধর্মীয় ও ঐতিহাসিক ঐতিহ্য পুনরুদ্ধারের ক্ষেত্রে তাৎপর্যপূর্ণ। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে এই স্থাপনা শহরটির ধর্মীয় অনুশীলন ও শিক্ষাচর্চার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত।
সিরিয়ায় ২০১১ সালে শুরু হওয়া সরকারবিরোধী আন্দোলন পরবর্তী সময়ে গৃহযুদ্ধে রূপ নিলে উমাইয়া মসজিদও সংঘাতের বাইরে থাকতে পারেনি। ২০১২ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত সরকারি বাহিনী ও বিদ্রোহীদের মধ্যে আলেপ্পোতে তীব্র লড়াই চলে। কৌশলগত অবস্থানের কারণে মসজিদটি ও এর আশপাশের এলাকা বারবার সংঘর্ষের মুখে পড়ে। এ সময় স্থাপনাটির নিয়ন্ত্রণও একাধিকবার পরিবর্তিত হয়।
যুদ্ধের ফলে মসজিদের গম্বুজ, বারান্দা ও ঐতিহাসিক মিনারসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপত্যের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। পরিস্থিতির কারণে ২০১৩ সালে সেখানে ধর্মীয় কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়। এরপর দীর্ঘ সময় ধরে মসজিদটি ব্যবহার অনুপযোগী অবস্থায় ছিল।
২০২৪ সালের ডিসেম্বরে বাশার আল-আসাদের সরকারের পতনের পর স্থাপনাটির পুনর্নির্মাণে উদ্যোগ নেয় আলেপ্পোর ওয়াকফ অধিদপ্তর। সংস্কারকাজে মসজিদের ঐতিহ্যবাহী নকশা ও ঐতিহাসিক বৈশিষ্ট্য অক্ষুণ্ন রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
গ্রেট উমাইয়া মসজিদ আলেপ্পোর কেন্দ্রীয় মসজিদ হিসেবেও পরিচিত। অষ্টম শতাব্দীর শুরুতে উমাইয়া শাসনামলে এর নির্মাণকাজ শুরু হয় বলে ঐতিহাসিক নথিতে উল্লেখ রয়েছে। প্রচলিত ঐতিহাসিক বিবরণ অনুযায়ী, উমাইয়া খলিফা সুলাইমান ইবনে আব্দুল মালিকের সময় মসজিদটি প্রতিষ্ঠিত হয়।
দীর্ঘ বিরতির পর মসজিদটি আবার খুলে দেওয়ার মধ্য দিয়ে আলেপ্পোর ঐতিহাসিক ঐতিহ্য সংরক্ষণ ও ধর্মীয় জীবনে স্বাভাবিকতা ফিরিয়ে আনার প্রচেষ্টায় নতুন একটি অধ্যায় যুক্ত হলো।
সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি
সদ্য সংবাদ/এসএস