ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে ঘোষিত ‘যন্তর মন্তর ২.০’ কর্মসূচিকে ঘিরে দিল্লিতে উত্তেজনা ছড়ানোর খবর পাওয়া গেছে। কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার আগে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি) নেতাদের আটক এবং বিপুলসংখ্যক আন্দোলনকারীকে হেফাজতে নেওয়ার দাবি করা হয়েছে। তবে এসব ঘটনার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের স্বাধীনভাবে যাচাই করা বক্তব্য পাওয়া না যাওয়ায় তথ্যগুলো নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শনিবার সকালে মুম্বাই থেকে দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর সিজেপির তিন নেতা অভিজিৎ দিপকে, সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাকে আটক করে পুলিশ। একই সময়ে হরিয়ানার গুরুগ্রামে নিজের বাসভবন থেকে জনপ্রিয় ইউটিউবার ধ্রুব রাঠীকে আটক করা হয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে। এ ছাড়া দলটির আইনি দলের প্রধান রত্না সিংহসহ ১২০০-এর বেশি আন্দোলনকারী ও সমর্থককে আটক করার তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে।
সিইসির পদত্যাগের দাবিতে কর্মসূচি
প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে এই বিক্ষোভ কর্মসূচির ডাক দেওয়া হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ভোটার তালিকা সংশোধনের বিশেষ প্রক্রিয়া- ‘স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন’ (এসআইআর)- নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ তুলে প্রতিবাদকারীরা আন্দোলনের পরিকল্পনা করেন। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা এবং কর্মসূচি ঘিরে পুলিশের পদক্ষেপ সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্য যাচাই করা প্রয়োজন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, কর্মসূচির অনুমতি ও নিরাপত্তা পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে পুলিশ অভিযান চালায়। আটক নেতাদের কোথায় রাখা হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশের বক্তব্য পাওয়া যায়নি বলে দাবি করা হয়েছে।
নিরাপত্তা জোরদারের দাবি
দিল্লিতে বিক্ষোভ ঠেকাতে ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলেও প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। এতে প্রায় ২৭ হাজার নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন, কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় মোবাইল ইন্টারনেট বন্ধ এবং একাধিক মেট্রো স্টেশন ও ট্রেন চলাচল সীমিত করার দাবি করা হয়েছে। তবে এসব ব্যবস্থার ব্যাপ্তি ও কার্যকারিতা সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য সরকারি সূত্রে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
সিজেপির পক্ষ থেকে আটক নেতাদের মুক্তি দাবি করে বিবৃতি দেওয়ার কথাও প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে। দলটির দাবি, নেতাদের আটকের মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার অধিকার বাধাগ্রস্ত করা হয়েছে।
দিল্লিতে বিক্ষোভ, আটকের ঘটনা এবং পরিবহন ও যোগাযোগব্যবস্থায় বিধিনিষেধের বিষয়ে প্রকৃত পরিস্থিতি জানতে পুলিশ, প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট পরিবহন কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য গুরুত্বপূর্ণ। তথ্যগুলো নিশ্চিত হওয়ার পরই ঘটনাটির পূর্ণাঙ্গ চিত্র স্পষ্ট হবে।
সদ্য সংবাদ/এসকে