ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে রাজনৈতিক বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে ব্যাপক ধরপাকড় চালাচ্ছে পুলিশ। এর মধ্যে কেরালার সাবেক মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন, পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং দিল্লির সাবেক মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়ালসহ একাধিক রাজনৈতিক নেতা আটক হয়েছেন। শুক্রবার সন্ধ্যার পর থেকে শনিবার পর্যন্ত রাজধানী ও আশপাশের এলাকায় এক হাজারের বেশি মানুষকে আটক করার খবর পাওয়া গেছে।
শনিবার (১০ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশিত এক ভিডিওবার্তায় পিনারাই বিজয়নের আটকের বিষয়টি জানান ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি-মার্কসবাদীর (সিপিআইএম) সংসদ সদস্য জন ব্রিটাস। ভিডিওতে বিজয়ন ও কেরালার সাবেক অর্থমন্ত্রী কে এন বালাগোপালকেও দেখা যায়।
জন ব্রিটাসের ভাষ্য অনুযায়ী, আটকের পর তাঁদের প্রথমে ছত্রশাল স্টেডিয়ামে নেওয়া হয়। সেখানে ৩০ থেকে ৪০ মিনিট রাখার পর পুলিশ জিপে করে অন্যত্র নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। তাঁদের কোথায় নেওয়া হচ্ছে, সে বিষয়ে পুলিশ কিছু জানায়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
দিল্লি পুলিশের পদক্ষেপের সমালোচনা করে ব্রিটাস বলেন, রাজধানীতে মানুষের মৌলিক নাগরিক স্বাধীনতা খর্ব করা হচ্ছে। তাঁর অভিযোগ, পুলিশ বিক্ষোভকারীদের বিভিন্ন স্থানে ঘুরিয়ে বেড়াচ্ছে।
এদিকে বিক্ষোভ ঘিরে সম্ভাব্য বিশৃঙ্খলা এড়াতে দিল্লিজুড়ে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাজীব চক, নয়াদিল্লি, সেন্ট্রাল সেক্রেটারিয়েট, প্যাটেল চক ও কাশ্মীরি গেটসহ ৪৫টি মেট্রো স্টেশনের প্রবেশ ও বের হওয়ার পথ বন্ধ রাখা হয়েছে। পাশাপাশি হযরত নিজামুদ্দিন ও নয়াদিল্লি স্টেশনে আসার কথা ছিল এমন ২৫০টির বেশি ট্রেন বাতিল করা হয়েছে।
নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ২০ হাজারের বেশি পুলিশ সদস্য মোতায়েন এবং ৩০০টি সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের তথ্যও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া যন্তর মন্তরের চারপাশে চার কিলোমিটার এলাকাজুড়ে শুক্রবার রাত ১০টা থেকে ২৪ ঘণ্টার জন্য ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ রাখার কথা বলা হয়েছে।
ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) বিক্ষোভ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে এই নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে দলটির তিন শীর্ষ সংগঠক অভিজিৎ দীপকে, সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কা, আইন শাখার প্রধান রত্না সিংহ এবং ইউটিউবার-ইনফ্লুয়েন্সার ধ্রুব রাঠিও রয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে গত ২০ জুলাই সিজেপির বিক্ষোভে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়েছিল। এবারের কর্মসূচিতে একই ধরনের পরিস্থিতি এড়াতেই পুলিশ আগাম প্রস্তুতি নিয়েছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
সদ্য সংবাদ/এসএস