জিবুতি থেকে ইয়েমেন যাওয়ার পথে প্রায় ৩৫০ জন অভিবাসনপ্রত্যাশীকে বহনকারী একটি নৌকা ডুবে অন্তত ১০৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে ১৫টি শিশু রয়েছে। এ ঘটনায় আরও অন্তত ১১৬ জন নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম)।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বেঁচে ফেরা যাত্রীদের বর্ণনার ভিত্তিতে আইওএম জানিয়েছে, গত বৃহস্পতিবার ও শুক্রবারের মধ্যবর্তী রাতে জিবুতির বন্দরনগরী ওবকের উত্তরে গুহেরে এলাকার কাছে দুর্ঘটনাটি ঘটে।
উদ্ধার করা মরদেহগুলোর মধ্যে ৫২ জন পুরুষ, ৪২ জন নারী ও ১৫টি শিশু রয়েছে। শিশুদের মধ্যে নয়জন মেয়ে এবং ছয়জন ছেলে।
দুর্ঘটনার পর ৮০ জনের বেশি যাত্রীকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। তাঁদের সবাই ইথিওপিয়ার নাগরিক। এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে ইথিওপিয়া সরকারের একজন মুখপাত্রের সঙ্গে তাৎক্ষণিকভাবে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। এদিকে জিবুতির স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জীবিত উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের চিকিৎসা এবং নিহতদের দাফনের ব্যবস্থা করছে বলে জানিয়েছে আইওএম।
জিবুতিতে সংস্থাটির মিশনপ্রধান আলেকজান্দ্রে কোয়াসাক বলেন, জরুরি সহায়তা দিতে আইওএমের দল স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ঘটনাস্থলে কাজ করছে। অর্থনৈতিক সুযোগের সন্ধানে অভিবাসনপ্রত্যাশীরা এই পথে যাত্রা করতে গিয়ে যে ভয়াবহ ঝুঁকির মুখে পড়েন, দুর্ঘটনাটি তা আবারও সামনে এনেছে।
এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা ও সংঘাত অভিবাসন সংকটকে আরও জটিল করে তুলেছে। ইয়েমেনে সৌদি আরব-সমর্থিত সরকারি বাহিনী ও ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের মধ্যে লড়াই নতুন করে তীব্র হয়েছে। ২০২২ সালে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতির পর সীমান্তপারের হামলা বন্ধ থাকলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে দেশটিতে সংঘাত আবারও গুরুতর রূপ নিয়েছে।
আইওএমের তথ্য অনুযায়ী, সংঘাতের কারণে গত সপ্তাহে ইয়েমেনে বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা ৭৬ হাজার থেকে বেড়ে ২ লাখে দাঁড়িয়েছে। একই সময়ের মধ্যে সমুদ্রপথে ইয়েমেন থেকে ৩ হাজার ৭০০ জনের বেশি মানুষ জিবুতিতে পালিয়ে গেছেন।
অন্যদিকে, গত মাসে ইথিওপিয়ায় তিগ্রে যুদ্ধের পর সবচেয়ে বড় পরিসরে সহিংসতা শুরু হয়েছে। দারিদ্র্য, নিরাপত্তাহীনতা ও সংঘাতের কারণে মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এসব বিপজ্জনক সমুদ্রপথে পাড়ি দিতে বাধ্য হচ্ছেন।
সদ্য সংবাদ/ এআর