পাকিস্তানের বন্দরনগরী করাচিতে জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ২০ অক্টোবর পর্যন্ত সভা-সমাবেশ ও বিক্ষোভের ওপর ১৪৪ ধারা জারি করেছে স্থানীয় প্রশাসন। একই সঙ্গে পাঁচজনের বেশি মানুষের জমায়েতও নিষিদ্ধ করা হয়েছে। সোমবার (১২ অক্টোবর) করাচির কমিশনার সৈয়দ হাসান নাকভির জারি করা নির্দেশনায় এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। খবর ডনের।
প্রশাসনের দাবি, নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও মোড়ে একের পর এক প্রতিবাদ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হওয়ায় যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে। এতে সাধারণ মানুষের যাতায়াত ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
নির্দেশনায় বলা হয়েছে, বিক্ষোভকারীদের সড়ক অবরোধের কারণে জরুরি সেবায় নিয়োজিত যানবাহন চলাচল বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এমনকি হাসপাতালমুখী মানুষের চলাচলেও সমস্যা তৈরি হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে জনদুর্ভোগ কমানো এবং সম্ভাব্য অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে নিষেধাজ্ঞা জারির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, করাচি বিভাগের আওতায় প্রতিবাদ, বিক্ষোভ, অবস্থান কর্মসূচি, র্যালি ও মিছিল আয়োজন কিংবা এসব কর্মসূচিতে সহযোগিতা করা যাবে না। জনশৃঙ্খলা বজায় রাখা, নাগরিকদের জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জরুরি সেবার স্বাভাবিক কার্যক্রম সচল রাখাই এ পদক্ষেপের উদ্দেশ্য বলে জানিয়েছে প্রশাসন।
এদিকে পাকিস্তানের রাজনৈতিক পরিস্থিতিও ক্রমেই উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। খাইবার পাখতুনখোয়ায় জরুরি অবস্থা জারি এবং প্রদেশটির মুখ্যমন্ত্রী ও পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) নেতা সোহেল আফ্রিদিকে গ্রেপ্তারের ঘটনায় রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।
অন্যদিকে, দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও পিটিআই প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খান দীর্ঘদিন ধরে কারাগারে রয়েছেন। এসব ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক বিরোধ আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে করাচিতে বিক্ষোভ-সমাবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করল স্থানীয় প্রশাসন।
সদ্য সংবাদ/এসএস