ইতালির মিলান শহরের কাছে রাস্তার পাশে একটি গাছের নিচে প্লাস্টিকের ব্যাগে ভরে ফেলে রাখা এক নবজাতককে উদ্ধার করেছেন এক নারী। গত সোমবার বিকেলে সিনিসেলো বালসামো এলাকার ভিয়া মন্তে ওর্তিগারা সড়কে এ ঘটনা ঘটে। শিশুটিকে উদ্ধারের পর হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকেরা জানান, তার শরীরের তাপমাত্রা কিছুটা কমে গিয়েছিল। তবে বর্তমানে সে আশঙ্কামুক্ত।
ইতালির সংবাদমাধ্যম কোরিয়েরে দেলা সেরা ও লা রিপাবলিকার তথ্য অনুযায়ী, সোমবার বিকেল ৪টা ১৫ মিনিটের দিকে সান্দ্রা নামের ৫৮ বছর বয়সী এক নারী পোষা কুকুর নিয়ে হাঁটতে বের হয়েছিলেন। এ সময় রাস্তার পাশে একটি গাছের নিচে পড়ে থাকা নীল রঙের প্লাস্টিকের ব্যাগের কাছে গিয়ে ঘ্রাণ নিতে শুরু করে কুকুরটি।
প্রথমে ব্যাগের ভেতরে কোনো কুকুরছানা রয়েছে বলে ধারণা করেছিলেন সান্দ্রা। তবে ব্যাগটি নড়াচড়া করতে দেখে সন্দেহ হয় তাঁর। পরে ব্যাগটি খুলে ভেতরে একটি নবজাতককে দেখতে পান তিনি।
সান্দ্রার ভাষ্য অনুযায়ী, ব্যাগটি দুটি শক্ত গিঁট দিয়ে বাঁধা ছিল। শিশুটিকে একটি চাদর দিয়ে মোড়ানো হয়েছিল। ব্যাগের ফাঁকা জায়গাগুলোতে গুঁজে দেওয়া হয়েছিল মোজা ও সোয়েটার। ব্যাগ খোলার পর শিশুটি জোরে কেঁদে ওঠে।
ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে সান্দ্রা বলেন, শিশুটিকে শুধু ফেলে যাওয়া হয়নি, বরং শ্বাসরোধ করে মেরে ফেলার চেষ্টাও করা হয়ে থাকতে পারে।
শিশুটিকে উদ্ধারের পরপরই জরুরি সেবা নম্বর ১১২-তে ফোন করেন সান্দ্রা। অ্যাম্বুলেন্স পৌঁছানোর আগপর্যন্ত জরুরি সেবার অপারেটরের নির্দেশনা অনুযায়ী নিজের সোয়েটার দিয়ে শিশুটিকে জড়িয়ে উষ্ণ ও সজাগ রাখার চেষ্টা করেন তিনি।
পরে শিশুটিকে মিলানের নিগুয়ার্দা হাসপাতালে নেওয়া হয়। প্রায় চার কেজি ওজনের শিশুটি ছেলে। চিকিৎসকেরা জানান, তার শরীরের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে কিছুটা কমে গিয়েছিল। এ কারণে তাকে শরীরের তাপমাত্রা স্বাভাবিক করতে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও স্বল্পমাত্রার অক্সিজেন দেওয়া হয়। বর্তমানে শিশুটি সুস্থ রয়েছে এবং হাসপাতালের বিশেষ তত্ত্বাবধানে আছে।
এদিকে শিশুটিকে কে বা কারা সেখানে ফেলে গেছে, তা শনাক্ত করতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। এ জন্য ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে।
ইতালিতে পরিচয় গোপন রেখে হাসপাতালে সন্তান জন্ম দেওয়া এবং নবজাতককে নিরাপদে রেখে যাওয়ার আইনি সুযোগ রয়েছে। এমন সুযোগ থাকা সত্ত্বেও শিশুটিকে এভাবে ফেলে যাওয়ার ঘটনায় স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিস্ময় প্রকাশ করা হয়েছে।
সদ্য সংবাদ/ এআর