ভারতের রাজধানী দিল্লিতে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের কর্মসূচিতে যোগ দিতে যাওয়ার সময় ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে-কে আটক করেছে পুলিশ। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) কনট প্লেস এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। এ তথ্য জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমস।
পুলিশের দাবি, কনট প্লেস এলাকায় বিক্ষোভ, মিছিল কিংবা সমাবেশ আয়োজনের অনুমতি নেই। জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা, যান চলাচল স্বাভাবিক রাখা এবং ওই এলাকার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও সাধারণ মানুষের স্বার্থ রক্ষায় সেখানে এ ধরনের কর্মসূচি নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
দিল্লি পুলিশের দেওয়া নোটিশে বলা হয়, কনট প্লেস অনুমোদিত বিক্ষোভস্থল নয়। প্রয়োজনীয় অনুমতি নিয়ে নির্ধারিত স্থানগুলোতে কর্মসূচি পালন করা যেতে পারে। নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে জমায়েত হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলেও সতর্ক করেছে পুলিশ।
নোটিশে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ওই এলাকায় ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার ১৬৩ ধারার অধীনে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর রয়েছে। এর ব্যত্যয় ঘটলে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা, ২০২৩-এর ২২৩ ধারাসহ প্রযোজ্য অন্যান্য আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক ঘোষণায় ১৬ অক্টোবর স্থানীয় সময় বিকেল ৫টায় কনট প্লেসে সমবেত হওয়ার আহ্বান জানান অভিজিৎ দীপকে। জাতীয় পতাকা উত্তোলনকে কেন্দ্র করে এ কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল।
তবে কর্মসূচি ঘিরে সম্ভাব্য যানজট ও জনদুর্ভোগের আশঙ্কা প্রকাশ করেছে পুলিশ। তাদের ভাষ্য, কনট প্লেসের আশপাশে শোরুম, রেস্তোরাঁ, হোটেল, ব্যাংক, অফিস ও বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। সেখানে জমায়েত হলে স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি রাজীব চক মেট্রো স্টেশনের কাছে যানজট কিংবা পদদলিত হওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। ওই পথ দিয়ে প্রতিদিন গড়ে প্রায় দুই লাখ যাত্রী যাতায়াত করেন বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে, পুলিশ ও অভিজিৎ দীপকের কথোপকথনের একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে সিজেপি। ভিডিওতে এক পুলিশ কর্মকর্তাকে বিকেলে কর্মসূচিতে অংশ নিতে বের না হওয়ার পরামর্শ দিতে দেখা যায়। জবাবে দীপকে দাবি করেন, তাদের কর্মসূচিতে লাউডস্পিকার ব্যবহারের পরিকল্পনা নেই এবং তারা কোনো বিক্ষোভ সমাবেশও করছেন না। শুধু জাতীয় পতাকা উত্তোলন করে ফিরে আসবেন বলে জানান তিনি।
পুলিশের দেওয়া নোটিশ নিয়েও আপত্তি তোলেন সিজেপি প্রতিষ্ঠাতা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে মানুষকে প্ররোচিত করার অভিযোগের বিষয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, সহিংসতায় উসকানি দেওয়ার প্রমাণ থাকলে তা দেখানো হোক।
ঘটনাটি ঘিরে পুলিশের নিষেধাজ্ঞা এবং জাতীয় পতাকা উত্তোলনের কর্মসূচি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।
সদ্য সংবাদ/এসএস