শত্রুপক্ষের ড্রোনের নজরদারি, স্থলমাইনের ঝুঁকি আর গোলাবর্ষণের আশঙ্কা- সব মিলিয়ে যুদ্ধক্ষেত্রের সম্মুখভাগ থেকে আহত সেনাকে উদ্ধার করা ছিল প্রায় অসম্ভব। এমন পরিস্থিতিতে ভারী ড্রোন ব্যবহার করে গুরুতর আহত এক সেনাকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়েছে ইউক্রেনের সামরিক বাহিনী। ঝুঁকিপূর্ণ এই অভিযানের ভিডিও প্রকাশের পর যুদ্ধক্ষেত্রে ড্রোনের বিকল্প ব্যবহার নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) ইউক্রেনের সশস্ত্র বাহিনীর ৯২তম পৃথক অ্যাসল্ট ব্রিগেড উদ্ধার অভিযানের ভিডিও প্রকাশ করে। ব্রিগেডটির দাবি, প্রচলিত পদ্ধতিতে উদ্ধারকারী দল পাঠানো ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় বিকল্প হিসেবে ভারী ড্রোন ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
ইউক্রেনীয় সামরিক কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনাস্থলে রুশ ড্রোনের তৎপরতা ছিল তীব্র। পাশাপাশি আশপাশের এলাকায় পুঁতে রাখা ল্যান্ডমাইনের কারণে স্থলপথে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করা কঠিন হয়ে পড়ে। এ অবস্থায় ব্রিগেডের চালকবিহীন আকাশযান পরিচালনাকারী ইউনিটের সদস্যরা বিশেষ পরিকল্পনা করেন।
অভিযানে ব্যবহার করা হয় স্থানীয়ভাবে তৈরি ছয় পাখাবিশিষ্ট একটি ভারী হেক্সাকপ্টার। ড্রোনটি মূলত বোমা বহন ও হামলার কাজে ব্যবহারের জন্য তৈরি করা হয়েছিল। তবে এবার সেটিকে আহত সেনাকে উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যাওয়ার কাজে ব্যবহার করা হয়।
প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, দূরনিয়ন্ত্রিত ড্রোনটি ধীরে ধীরে আহত সেনার অবস্থানের দিকে এগিয়ে যায়। সেখানে পৌঁছানোর পর সেনাটি একটি ক্লিপের সাহায্যে নিজেকে ড্রোনের সঙ্গে আটকে নেন। এরপর ড্রোনটি মাটির কাছাকাছি দিয়ে উড়ে বিপজ্জনক এলাকা পেরিয়ে তাঁকে নিরাপদ স্থানে নিয়ে আসে।
উদ্ধার শেষে ড্রোনের অপারেটর আহত সেনাকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, ‘মাটিতে স্বাগতম’। সামরিক সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, উদ্ধার হওয়া সেনা বর্তমানে বিপদমুক্ত এবং হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
সাধারণত যুদ্ধক্ষেত্র থেকে আহত সেনাদের উদ্ধার করতে গেলে উদ্ধারকারী দলকে শত্রুপক্ষের হামলা, ড্রোনের আক্রমণ ও স্থলমাইনের ঝুঁকি মোকাবিলা করতে হয়। এ ক্ষেত্রে দূর থেকে পরিচালিত ড্রোন ব্যবহার করায় উদ্ধারকারী দলের সরাসরি বিপজ্জনক এলাকায় প্রবেশের প্রয়োজন কমেছে।
ইউক্রেনের এই অভিযান যুদ্ধক্ষেত্রে সামরিক প্রযুক্তির বহুমুখী ব্যবহারের একটি উদাহরণ হিসেবে সামনে এসেছে। তবে আহত ব্যক্তিকে ড্রোনের মাধ্যমে বহন করার ক্ষেত্রে নিরাপত্তা, ওজন বহনের সক্ষমতা এবং নিয়ন্ত্রণের মতো বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ। প্রযুক্তিটি আরও উন্নত করা গেলে ভবিষ্যতে বিপজ্জনক এলাকায় আহত সেনাদের দ্রুত সরিয়ে নেওয়ার বিকল্প পদ্ধতি হিসেবে এর ব্যবহার বাড়তে পারে।
সদ্য সংবাদ/এসকে